‘বক্তব্য বিকৃতিতে’ আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন এমপি সানজিদা তুলি

ছবি: আগামীর সময়
রাজধানীর মিরপুর ১ এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শনকালে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি ‘মধ্যরাতে রাড্ডা হাসপাতাল ভাঙচুর দখল নয়, সংস্কারের উদ্দেশ্যে’ শীর্ষক মন্তব্য করেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দাবি ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন। সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি হাসপাতালটি ভাঙচুর বা সংস্কারের বিষয়ে এমন কোনো মন্তব্য করেননি। কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই তাঁর নামে মিথ্যা ও গুজবমূলক এই কথাটি প্রচার করা হচ্ছে।
কী দাবি করা হচ্ছে?
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিরাপত্তাকর্মীদের বেঁধে রেখে রাজধানীর মিরপুর ১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে ঢুকে প্রথমে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে। এরপর মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর ক্লিনিকটি পরিদর্শনে যান সংরক্ষিত নারী এমপি সানজিদা ইসলাম তুলি। এই পরিদর্শনকে কেন্দ্র করেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে যে, তিনি নাকি বলেছেন— ‘মধ্যরাতে রাড্ডা হাসপাতাল ভাঙচুর দখল নয়, সংস্কারের উদ্দেশ্যে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবিটি প্রথম দিকে ছড়ায় ‘News বাংলা’ ও ‘Discover বাংলা’ নামের দুইটি ফেসবুক পেজ থেকে। এসব পেজে তুলির ক্লিনিক পরিদর্শনের একই ভিডিও ব্যবহার করে ক্যাপশনে উক্ত দাবি প্রচার করা হয়। এই ভিডিও দুইটি যথাক্রমে প্রায় ৩ হাজার ও ৮৯ বার শেয়ার করা হয়েছে।
আসল ঘটনা কী?
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ক্লিনিকটি পরিদর্শনে গিয়ে সংরক্ষিত নারী এমপি সানজিদা ইসলাম তুলির বক্তব্যের একটি লাইভ ভিডিও পাওয়া যায় ‘দৈনিক নাগরিক কণ্ঠ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে। পুরো বক্তব্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তুলি সেখানে ‘সংস্কারের উদ্দেশ্যেই রাড্ডা হাসপাতাল ভাঙচুর’’ সংক্রান্ত কোনো মন্তব্যই করেননি।
অন্যদিকে ‘Discover বাংলা’ পেজের ভিডিওটি তুলি নিজেও তাঁর ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে শেয়ার করেছিলেন, তবে সেখানে তাঁর কোনো বক্তব্য বা মন্তব্য ছিল না। পরবর্তীতে তাঁর অফিশিয়াল পেজ থেকে সেই ভিডিওটি শেয়ার করে এটিকে ‘মিসলিডিং’ (বিভ্রান্তিকর) বলে চিহ্নিত করা হয়।
এমপি সানজিদা ইসলাম তুলি পরবর্তীতে তাঁর পেজে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান— ‘দখল নয়, সংস্কারের উদ্দেশ্যেই রাতে ভাঙা হয়েছে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র’— এমন কোনো বক্তব্য আমি দেইনি, এটি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও গুজব। দায়িত্বশীল গণমাধ্যমগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, যারা ঘটনাটি নিয়ে তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করেছেন এবং করছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনুরোধ করছি, কোনো ফটোকার্ড, পোস্ট বা বক্তব্য শেয়ার করার আগে এর উৎস ও সত্যতা যাচাই করুন।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন— রাড্ডা ক্লিনিকে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক ও কয়েকজন আমার ছবি ব্যবহার করে ফটোকার্ড তৈরি করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন। এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আমি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছি। একই সঙ্গে আমার এলাকার সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য বা সমস্যা দেখা দিলে গুজব ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে দায়িত্বশীলভাবে পরামর্শ দিন এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করুন। সত্য ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা হোক; মিথ্যা তথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার নয়।
এমপি তুলি আরও উল্লেখ করেন— রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়; এটি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাই এ প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি বা অপতথ্য না ছড়িয়ে আমাদের সবার উচিত এর স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার কাজে সহযোগিতা করা। আমার অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার, অন্যায়ভাবে ভাঙচুরের ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করতে হবে, দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের টিকাদান ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। জনস্বার্থ, মানবিকতা এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার কথা বিবেচনা করে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি।
অতএব, প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও সংসদ সদস্যের নিজস্ব বিবৃতির ওপর ভিত্তি করে এটি স্পষ্ট যে, ‘সংস্কারের উদ্দেশ্যেই রাড্ডা হাসপাতাল ভাঙচুর’ বলে এমপি সানজিদা ইসলাম তুলি কোনো বক্তব্য প্রদান করেননি। প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।





