আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নই জননিরাপত্তার প্রধান শর্ত

সংগৃহীত ছবি
নাগরিকের জানমাল নিরাপদ না হলে উন্নয়নের সব অর্জনই ম্লান হয়ে যায়। তাই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বর্তমানে চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও সাইবার অপরাধ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এটিও সত্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অপরাধ দমনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অনেক অপরাধের রহস্য দ্রুত সময়ের মধ্যে উদ্ঘাটিত হচ্ছে, অপরাধীরা আইনের আওতায় আসছে।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করলেই হবে না; সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। পরিবারকে সন্তানদের নৈতিক শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি জরুরি। এ ছাড়া থানাগুলোকে আরও জনবান্ধব করতে হবে, অভিযোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং অপরাধ তদন্তে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হলে অপরাধীরা অনেক সময় পার পেয়ে যায় এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন। তাই দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করাও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আমাদের প্রত্যাশা এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে মানুষ নির্ভয়ে রাতে ঘরে ফিরতে পারবে, নারী ও শিশুরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে। নিরাপত্তা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র ও নাগরিকের যৌথ দায়িত্ব। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে আরও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের এখনই সময়।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী, নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা




