সিলেটে ঘর থেকে প্রবীণ দম্পতি ও গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার

সিলেটের একটি বাসা থেকে স্বামী, স্ত্রী ও গৃহকর্মীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার সকালে নগরীর রায়নগর আবাসিক এলাকার মিতালী ১১১ নম্বর বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, আব্দুস সাত্তার মিয়া (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ( ৭২) ও গৃহকর্মী তাহমিনা (২৫)।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মঞ্জুরুল আলম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে আছে। মরদেহ উদ্ধার ও ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয়রা জানান, সকালে বাসার ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। সিআইডি ও পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দম্পতির মরদেহ পাওয়া যায় বাসার একটি শয়নকক্ষে। আর গৃহকর্মীর দেহ পাওয়া যায় ডাইনিং এরিয়াতে। বাসার একটি ওয়াশরুমের দরজা ভেতর থেকে লক করা ছিল। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দরজার লক খোলেন। তবে ভেতরে মেলেনি কিছু। ভেতর থেকে দরজা কেন লক ছিল- সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দম্পতির আমেরিকা প্রবাসী মেয়ে শিমুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন সাংবাদিকরা। তিনি জানিয়েছেন, তারা তিন বোন ও এক ভাই, সবাই আমেরিকা প্রবাসী।
শিমু বললেন, ‘গত রাতেই বাবা-মার সঙ্গে কথা হয়েছে। তখন বাসার সবাই ভালো ছিল। আজ সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে এই ঘটনা জানলাম।’
ঘটনাস্থলে ভিড় জমানো আশপাশের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত আব্দুস সাত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে কোনো পদে ছিলেন না।
নিহত দম্পতির প্রতিবেশী মো. অপু জানালেন, বাড়িটিতে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও এর লাইন কাটা পাওয়া গেছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সিলেট মহানগর পুলিশরের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বললেন, ‘চার তলার ভাড়াটিয়ারা জানিয়েছেন, তারা সকালের দিকে ওই ঘর থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ পেয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের আঘাত করা হয়েছে। তবে ক্রাইম সিন থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। ঘরের আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেখান থেকে স্বর্ণালঙ্কার বা মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গিয়ে থাকতে পারে।’
পুলিশের সিআইডি, পিবিআই এবং স্পেশাল টিম একযোগে তদন্তের কাজ করছে। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করা হবে বলে জানালেন মহানগর পুলিশ কমিশনার। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।





