হয়রানি কমবে অনেকাংশে

সংগৃহীত ছবি
সম্প্রতি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় নারীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু হয়েছে ‘পিংক বাস সার্ভিস’। যাত্রী, চালক ও কন্ডাক্টর— সবাই নারী হওয়া এই উদ্যোগের মূল বৈশিষ্ট্য। কয়েক বছর আগে অনুরূপ একটি সেবা চালু হলেও তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
গণপরিবহনে নারীদের ভিড়ের মধ্যে ওঠা-নামা কিংবা যাতায়াতের সময় প্রতিনিয়ত নানা মানসিক ও শারীরিক হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। সেই তুলনায় বাসের সংখ্যা এখনো অপ্রতুল হলেও ভবিষ্যতে তা বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নিরাপদে যাতায়াত নিশ্চিত করতে ও হয়রানি কমাতে এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
তবে দুঃখজনক বিষয় হলো, সার্ভিসটি চালুর পর থেকেই কিছু অসাধু ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যস্ত সড়কে গাড়ি চালানো বা ফ্লাইওভারে ওঠার ক্ষেত্রে নারী চালকরা পুরুষ চালকদের সাময়িক সহযোগিতা নিয়েছেন। নবীন চালকদের ক্ষেত্রে বিষয়টি খুবই স্বাভাবিক এবং একে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখা উচিত।
আজ নারীসমাজ ঘরে-বাইরে সমান দক্ষতায় অবদান রাখছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গন থেকে শুরু করে বৈমানিক, সশস্ত্র বাহিনী কিংবা সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন। সুতরাং তাদের হেয় করার কোনো সুযোগ নেই; বরং তাদের সাহস, সহায়তা ও সম্মান জানানোই সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।
দেশ ও সমাজকে এগিয়ে নিতে নারী-পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলা জরুরি। শুধু পৃথক পিংক বাস সার্ভিস চালু করাই শেষ কথা নয়; এর পাশাপাশি সমাজের মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন আনা আরও বেশি জরুরি। নারী-পুরুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই গড়ে উঠুক নিরাপদ ও সমতাভিত্তিক বাংলাদেশ।
লেখক: চাকরিজীবী, ঢাকা







