Agamir Somoy E-Paper
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
গরিবের ডাক্তার খুরশীদ আলম
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় কলাম

ঐতিহাসিক ১৮ মে

নেতৃত্বের প্রত্যাবর্তন, ক্ষমতার ভাষা ও বিপ্লবের ক্লান্তি

রাজীব নন্দী
agamir somoy
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ১২:১৯
নেতৃত্বের প্রত্যাবর্তন, ক্ষমতার ভাষা ও বিপ্লবের ক্লান্তি

১৮ মে, ১৮০৪। ফরাসি বিপ্লবের রক্তাক্ত অস্থিরতার মাত্র এক দশক পর প্যারিসে আরেকটি ঐতিহাসিক দৃশ্যের জন্ম হয়। বিপ্লব যে রাজতন্ত্রকে উৎখাত করেছিল, সেই বিপ্লবেরই সন্তান নেপোলিয়ন বোনাপার্ট নিজেকে ফ্রান্সের সম্রাট ঘোষণা করেন। ক্লান্ত, বিভক্ত ও অনিশ্চয়তায় নিমজ্জিত একটি জাতি তখন স্বাধীনতার চেয়ে স্থিতিশীলতাকে বেশি প্রয়োজনীয় মনে করছিল। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই এক সেনানায়ক নিজেকে কেবল রাষ্ট্রের শাসক নয়, জাতির আশা, গৌরব ও ভবিষ্যতের প্রতীকে পরিণত করতে সক্ষম হন।

দুই শতাব্দী পর আজকের এশিয়া, এমনকি বাংলাদেশের দিকেও তাকালে ইতিহাসের সেই দৃশ্য অস্বস্তিকরভাবে পরিচিত মনে হয়। কারণ প্রতিটি গণঅভ্যুত্থান মানুষের মনে মুক্তির স্বপ্ন জাগালেও, পরবর্তী রাষ্ট্র নির্মাণের ব্যর্থতা প্রায়ই সমাজকে আবার ‘শক্তিশালী নেতৃত্ব’, ‘জাতীয় গৌরব’ এবং ‘স্থিতিশীলতার রাজনীতি’-র দিকে ঠেলে দেয়। বাংলাদেশের ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরও আমরা সেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি—যেখানে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ছিল প্রবল, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র নির্মাণের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এখনো অনিশ্চিত। প্রত্যাশা বলছে- গণতন্ত্রের পথে আমাদের যাত্রা শুরু।

রাজনৈতিক যোগাযোগের ভাষায় এটি কেবল ক্ষমতার সংকট নয়; এটি বয়ান, প্রতীক ও জনমানস নিয়ন্ত্রণেরও সংকট। আর সেই কারণেই নেপোলিয়নের গল্প আজ শুধু ইউরোপের অতীত নয়—এটি সমসাময়িক বাংলাদেশ ও এশিয়ার জন্যও এক গভীর সতর্কবার্তা।

কারণ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সত্যগুলোর একটি হলো—মানুষ যখন দীর্ঘ অস্থিরতা, দুর্নীতি, ব্যর্থতা বা রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলায় ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন তারা প্রায়ই স্বাধীনতার চেয়ে ‘স্থিতিশীলতা’কে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করে। আর সেই মুহূর্তেই শক্তিশালী নেতৃত্বের আকর্ষণ জন্ম নেয়।

রাজনীতির আলাপ থেকে চোখ ফেরাই তত্ত্বে। জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার ‘ক্যারিশমাটিক অথরিটি’ ধারণায় দেখিয়েছিলেন, সংকটময় সময়ে জনগণ প্রায়ই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর চেয়ে ব্যক্তির অসাধারণ নেতৃত্বগুণের ওপর বেশি আস্থা রাখতে শুরু করে। এই ধরনের নেতৃত্ব যুক্তি বা নিয়মের চেয়ে আবেগ, প্রতীক ও ব্যক্তিগত ক্যারিশমার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। নেপোলিয়ন সেই মডেলেরই এক ঐতিহাসিক উদাহরণ। তিনি নিজেকে কেবল শাসক হিসেবে নয়, ফরাসি জাতির পুনর্জাগরণের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। আধুনিক এশিয়ার রাজনীতিতেও একই প্রবণতা দৃশ্যমান। রাজনৈতিক যোগাযোগের ভাষা এখন ক্রমশ প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক না হয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। নেতা নিজেই রাষ্ট্রের প্রতীক, উন্নয়নের মুখ এবং জাতীয় মর্যাদার ভাষ্যকারে পরিণত হচ্ছেন। বাংলাদেশেও ২০২৪-এর পরবর্তী হতাশা ও অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এই ধরনের ‘ক্যারিশমাটিক রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা’ নতুনভাবে জন্ম নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ফরাসি বিপ্লবের পর ফ্রান্সে স্বাধীনতার স্বপ্ন ছিল, কিন্তু বাস্তবে ছিল বিশৃঙ্খলা, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। নেপোলিয়ন সেই ক্লান্ত সমাজকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—শৃঙ্খলা, উন্নয়ন, জাতীয় গৌরব ও শক্তিশালী রাষ্ট্র। জনগণও তাঁকে গ্রহণ করেছিল। কারণ বিপ্লব মানুষকে স্বাধীনতা দিলেও নিরাপত্তা দিতে পারেনি।

আজকের এশিয়ায়, এমনকি বাংলাদেশেও, সেই বাস্তবতার প্রতিধ্বনি শোনা যায়। বাংলাদেশের ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, গণতান্ত্রিক সংকোচন, প্রশাসনিক দলীয়করণ, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও নাগরিক হতাশার বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মসহ সমাজের বিভিন্ন অংশ রাস্তায় নেমেছিল। মানুষের প্রত্যাশা ছিল—এই আন্দোলন কেবল সরকার পরিবর্তন করবে না; রাষ্ট্রের চরিত্রও বদলে দেবে। অনেকে ভেবেছিলেন, বাংলাদেশ হয়তো নতুন সামাজিক চুক্তির পথে হাঁটবে, যেখানে জবাবদিহি, অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা ও নাগরিক মর্যাদা আরও শক্তিশালী হবে। কিন্তু ইতিহাসের কঠিন বাস্তবতা হলো—বিপ্লব বা গণঅভ্যুত্থান রাষ্ট্র নির্মাণের চেয়ে সহজ।

ফরাসি বিপ্লব যেমন দ্রুত স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তুলতে পারেনি, তেমনি বাংলাদেশও ২০২৪-এর পর কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পথে দৃঢ়ভাবে এগোতে পারেনি। কারণ পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি, ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন, পারস্পরিক অবিশ্বাস, প্রতিশোধপরায়ণতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা খুব দ্রুত ফিরে আসে। আমরা পেয়েছি গণউচ্ছৃঙ্খার মবতান্ত্রিক বাংলাদেশ।

এখানেই নেপোলিয়নের ইতিহাস ভয়াবহভাবে প্রাসঙ্গিক। বিপ্লব যখন স্থায়ী রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি করতে ব্যর্থ হয়, তখন জনগণ ধীরে ধীরে “কার্যকর শক্তি”র দিকে ঝুঁকে পড়ে। তারা আদর্শের চেয়ে ফলাফল দেখতে চায়। শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কার্যকারিতা তখন স্বাধীনতার ভাষাকে ছাপিয়ে যেতে শুরু করে। নেপোলিয়ন ঠিক এই মনস্তত্ত্বটিকেই ব্যবহার করেছিলেন।

আজকের বাংলাদেশেও সেই ঝুঁকি অস্বীকার করা যায় না। ২০২৪-এর পর মানুষ রাষ্ট্র সংস্কারের স্বপ্ন দেখেছিল, কিন্তু দ্রুতই স্পষ্ট হয়ে ওঠে—শুধু শাসক পরিবর্তন করলেই রাষ্ট্র বদলায় না। প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, দলীয় আচরণ, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও নাগরিক স্বাধীনতার মতো গভীর কাঠামোগুলো অপরিবর্তিত থাকলে পুরনো সংকট নতুন রূপে ফিরে আসে। ফলে হতাশা জন্ম নেয়। আর হতাশ জনগণ প্রায়ই শক্তিশালী, কেন্দ্রীয় ও আপসহীন নেতৃত্বের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এটি শুধু বাংলাদেশের বাস্তবতা নয়; পুরো এশিয়ার রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতেই এই প্রবণতা দৃশ্যমান।

চীন অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার মাধ্যমে এক ধরনের ‘কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রিত আধুনিকতা’র মডেল দাঁড় করিয়েছে। ভারতে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি শক্তিশালী নেতৃত্বের ধারণাকে আরও জনপ্রিয় করেছে। তুরস্ক, ফিলিপাইন কিংবা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন রাষ্ট্রেও ব্যক্তিনির্ভর নেতৃত্ব রাজনৈতিক সংস্কৃতির কেন্দ্রে চলে এসেছে। জনগণ উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা চায়; আর নেতারা সেই আকাঙ্ক্ষাকে জাতীয় গৌরব ও শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভাষায় রূপ দেন। নেপোলিয়নের সময়েও তাই হয়েছিল। তিনি কেবল সেনাপতি ছিলেন না; তিনি ফরাসি জাতীয় অহংকারের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। ইউরোপ জয় ফরাসিদের মনে এক ধরনের সভ্যতাগত শ্রেষ্ঠত্বের অনুভূতি তৈরি করেছিল। কিন্তু জাতীয় গৌরবের রাজনীতি যখন সমালোচনা ও জবাবদিহিকে দুর্বল করে দেয়, তখন রাষ্ট্র ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসী নয়, আত্মমুগ্ধ হয়ে ওঠে।

এশিয়ার বহু দেশ এখন সেই সীমারেখার কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশেও উন্নয়ন ও জাতীয় সক্ষমতার বয়ান গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হয়ে উঠেছে। এটি স্বাভাবিকও বটে। একটি উন্নয়নশীল জাতি আত্মমর্যাদা চাইবে, বড় অবকাঠামো চাইবে, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাইবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—উন্নয়ন কি রাজনৈতিক বহুত্ববাদ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে?

রাজনৈতিক যোগাযোগ তাত্ত্বিক মারে এডেলম্যান তাঁর ‘সিমবোলিক পলিটিক্স’ ধারণায় ব্যাখ্যা করেছিলেন, আধুনিক রাজনীতিতে ক্ষমতা কেবল নীতিনির্ধারণের মাধ্যমে টিকে থাকে না; এটি টিকে থাকে প্রতীক, ভাষা, আবেগ ও কল্পিত জাতীয় বয়ানের মাধ্যমে। নেপোলিয়নের সামরিক বিজয়, রাজকীয় আচার এবং ‘ফরাসি গৌরব’-এর ভাষ্য ছিল মূলত এক ধরনের রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশল, যা জনগণের আবেগকে রাষ্ট্রীয় শক্তির সঙ্গে যুক্ত করেছিল। আজকের এশিয়াতেও উন্নয়ন প্রকল্প, জাতীয় স্মারক, মেগা অবকাঠামো কিংবা ‘নতুন জাতি গঠনের’ ভাষা প্রায়ই রাজনৈতিক বৈধতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশেও উন্নয়ন ও জাতীয় মর্যাদার বয়ান রাজনৈতিক যোগাযোগের কেন্দ্রে এসেছে। কিন্তু যখন প্রতীক বাস্তব প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে ছাপিয়ে যায়, তখন রাষ্ট্রে অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের বদলে আবেগনির্ভর আনুগত্য শক্তিশালী হতে শুরু করে।

নেপোলিয়নের ইতিহাস বলছে, পারে না। কারণ ব্যক্তি যত শক্তিশালীই হোন না কেন, প্রতিষ্ঠান দুর্বল হলে রাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। নেপোলিয়নের ফ্রান্সে প্রশাসনিক দক্ষতা ছিল, সামরিক শক্তি ছিল, জাতীয় উন্মাদনা ছিল; কিন্তু ক্ষমতার ভারসাম্য ছিল না। ফলাফল—অবিরাম যুদ্ধ, রাজনৈতিক ক্লান্তি ও শেষ পর্যন্ত পতন।

বাংলাদেশের জন্য এই শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান যদি সত্যিই ঐতিহাসিক হয়ে থাকতে চায়, তবে সেটিকে কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়, প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠনের ভিত্তি হতে হবে। অন্যথায় ইতিহাসের চক্র আবারও একই জায়গায় ফিরে আসবে—একদল যাবে, আরেকদল আসবে; কিন্তু রাষ্ট্রের চরিত্র বদলাবে না।

সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা এখানেই যে আমরা এখনো ‘রাষ্ট্র’কে দল ও নেতার ঊর্ধ্বে কল্পনা করতে পুরোপুরি শিখিনি। আমাদের রাজনীতিতে এখনো ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানকে ছাপিয়ে যায়। আনুগত্য নীতির চেয়ে বড় হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রীয় কাঠামো নাগরিকের নয়, ক্ষমতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশি ব্যবহৃত হয়। ফলে গণঅভ্যুত্থানের শক্তিও শেষ পর্যন্ত টেকসই গণতান্ত্রিক রূপান্তরে পরিণত হতে পারে না।

নেপোলিয়নের গল্প তাই আজ বাংলাদেশের জন্য শুধু ইতিহাস নয়; এটি সতর্কবার্তা। বিপ্লব মানুষকে আবেগ দেয়, কিন্তু রাষ্ট্র গড়তে লাগে প্রতিষ্ঠান। জনসমর্থন ক্ষমতা এনে দেয়, কিন্তু রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখে জবাবদিহি। জাতীয় গৌরব জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে, কিন্তু সমালোচনাহীন ক্ষমতা শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকেই দুর্বল করে।

শেষ পর্যন্ত নেপোলিয়নের ইতিহাস আমাদের যে সবচেয়ে বড় শিক্ষা দেয়, তা হলো—বিপ্লব রাষ্ট্রকে বদলানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে, কিন্তু সেই সুযোগকে টেকসই রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে রূপ দিতে না পারলে সমাজ আবারও ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতা, প্রতীক নির্ভর জাতীয়তাবাদ এবং নিয়ন্ত্রিত স্থিতিশীলতার দিকে ফিরে যায়। ইতিহাসের ট্র্যাজেডি এখানেই যে মানুষ প্রায়ই স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখে, কিন্তু দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মুখে এসে নিরাপত্তাকেই বেশি জরুরি মনে করতে শুরু করে।

বাংলাদেশের ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানও আমাদের সামনে সেই প্রশ্নই রেখে গেছে। আমরা কি সত্যিই একটি অংশগ্রহণমূলক, জবাবদিহিমূলক ও প্রাতিষ্ঠানিক রাষ্ট্র নির্মাণের পথে এগোতে পেরেছি, নাকি এখনো ব্যক্তিনির্ভর রাজনৈতিক কল্পনার বৃত্তেই আবর্তিত হচ্ছি? কারণ রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি কোনো একক নেতা, দল বা আবেগে নয়; সেটি নিহিত থাকে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং নাগরিক আস্থায়।

১৮ মে তাই শুধু নেপোলিয়নের সম্রাট হওয়ার দিন নয়। এটি সেই দিনের স্মারক, যেদিন ইতিহাস দেখেছিল—একটি বিপ্লব কীভাবে ধীরে ধীরে ক্ষমতার নতুন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। আর আজকের বাংলাদেশের জন্য সেই ইতিহাসের সবচেয়ে জরুরি বার্তা সম্ভবত এটিই: জনগণের আবেগে রাষ্ট্রের জন্ম হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র টিকে থাকে কেবল প্রতিষ্ঠান, জবাবদিহি ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার ওপর।

লেখক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক; নিউ মিডিয়া ও রাজনৈতিক যোগাযোগ বিষয়ের গবেষক।

ইমেইল: [email protected]

মতামত
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    শ্রমিক দল নেতার বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ, ১৭ জনের নামে মামলা

    শ্রমিক দল নেতার বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ, ১৭ জনের নামে মামলা

    এমপি নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের পরিবারের আপস!

    এমপি নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের পরিবারের আপস!

    নারীদের সঙ্গে ‘অবাধ বিচরণ’-চুরির অভিযোগে আম্মারকে অব্যাহতি দেয় শিবির

    নারীদের সঙ্গে ‘অবাধ বিচরণ’-চুরির অভিযোগে আম্মারকে অব্যাহতি দেয় শিবির

    শেখ মুজিব হলের নামফলক থেকে মুছে যাচ্ছে ওসমান হাদির নাম

    শেখ মুজিব হলের নামফলক থেকে মুছে যাচ্ছে ওসমান হাদির নাম

    চট্টগ্রাম দক্ষিণের আহ্বায়ক কমিটিকে ‘লালকার্ড দেখাচ্ছেন’ বিএনপির এমপিরা

    চট্টগ্রাম দক্ষিণের আহ্বায়ক কমিটিকে ‘লালকার্ড দেখাচ্ছেন’ বিএনপির এমপিরা

    চাকরিতে পুলিশ ভেরিফিকেশনের বিধি মানে না কোনো সরকারই

    চাকরিতে পুলিশ ভেরিফিকেশনের বিধি মানে না কোনো সরকারই

    পাবিপ্রবিতে খাতা মূল্যায়নে ‘কোডিং সিস্টেম’ চালু

    পাবিপ্রবিতে খাতা মূল্যায়নে ‘কোডিং সিস্টেম’ চালু

    শাবিপ্রবিতে ৬ পদের বিপরীতে ৬ গুণ শিক্ষক নিয়োগ

    শাবিপ্রবিতে ৬ পদের বিপরীতে ৬ গুণ শিক্ষক নিয়োগ

    ফ্লাইটে ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ দেখানো বন্ধ, যা বলছে বিমান

    ফ্লাইটে ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ দেখানো বন্ধ, যা বলছে বিমান

    শ্রীমঙ্গলে কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

    শ্রীমঙ্গলে কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

    ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই চট্টগ্রামের ১২ কারাগারে

    ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই চট্টগ্রামের ১২ কারাগারে

    অকালে ঝরে যাওয়া এক সুরেলা স্বপ্ন

    অকালে ঝরে যাওয়া এক সুরেলা স্বপ্ন

    কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব

    কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব

    মধ্যরাতে ঈশ্বরদীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৭ ইউনিয়ন কমিটি ঘোষণা

    মধ্যরাতে ঈশ্বরদীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৭ ইউনিয়ন কমিটি ঘোষণা

    ফনিক্স ফান্ডে বিধি লঙ্ঘন

    ফনিক্স ফান্ডে বিধি লঙ্ঘন