প্যারিসে ‘নজরুলের চেতনায় নতুন বাংলাদেশের অভিযাত্রা’ শীর্ষক সেমিনার

সংগৃহীত ছবি
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ‘নজরুলের চেতনায় নতুন বাংলাদেশের অভিযাত্রা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সেন্টার, ফ্রান্স শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী এবং এর সঙ্গে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, দর্শন ও চেতনার যোগসূত্র নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।
বৃহত্তর প্যারিসের বুলোন-বিয়াঁকুর এলাকায় সোমবার একটি চার তারকা হোটেলের বলরুমে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সেমিনারের উদ্বোধন করেন ঢাকায় অবস্থানরত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লতিফুল ইসলাম শিবলী। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে যে পরিবর্তন এসেছে, তার প্রেক্ষাপট এবং এর সঙ্গে নজরুলের চেতনার প্রাসঙ্গিকতা নতুন করে অনুধাবন করা প্রয়োজন।
চলতি বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পূর্ববর্তী সংস্কৃতির পরিবর্তন চায়। এ ক্ষেত্রে নজরুলের সাহিত্য, দর্শন ও চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বারাকা গ্রুপের চেয়ারম্যান ফয়সল আহমদ চৌধুরী। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন আয়ারল্যান্ডপ্রবাসী কবি ও কলামিস্ট ডা. জিন্নুরাইন জায়গীরদার।
ডা. জিন্নুরাইন জায়গীরদার বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার সংগ্রামে নজরুলের সাহিত্যকর্ম অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। জাতি হিসেবে বড় ঘটনাগুলো দ্রুত ভুলে যাওয়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো স্মরণ ও সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
নজরুলের সাহিত্য ও দর্শনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সংগঠনের উপদেষ্টা ও নজরুল গবেষক খোরশেদ আলম পাটোয়ারী বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বিদ্রোহের কবি নন; তিনি প্রেম, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনারও কবি। তার সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন অন্যায়, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে মানুষকে সোচ্চার হতে অনুপ্রেরণা দেয়।
প্রধান অতিথি ফয়সল আহমদ চৌধুরী বলেছেন, প্রবাসে নানা ব্যস্ততার মধ্যেও নজরুল ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে এ ধরনের আয়োজন প্রশংসনীয়। এসব আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে সংযোগ আরও দৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সেন্টার, ফ্রান্স শাখার সভাপতি ও কবি সোহেল আহমদ। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সেক্রেটারি নজমুল হক।
সভাপতির বক্তব্যে কবি সোহেল আহমদ বললেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম শুধু আমাদের জাতীয় কবি নন, তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য বিদ্রোহী চেতনার প্রতীক। তাঁর লেখনীতে শোষণ, অন্যায়, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ উচ্চারিত হয়েছে, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।’
তিনি বলেছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে নজরুলের সাহিত্য বাঙালি সংস্কৃতি ও শিকড়ের সঙ্গে সংযোগের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নজরুলচর্চা এবং তাঁর অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী দর্শনের প্রসার ঘটানো প্রয়োজন।
সেমিনারে বাংলাদেশ কমিউনিটি ফ্রান্সের বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা বলেছেন, প্রবাসে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের মধ্যে নজরুলের সাহিত্য, মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সঙ্গে পরিচয় ঘটানোর পাশাপাশি দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর করাই এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।




