রূপপুরের প্রযুক্তিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করবে কাজাখস্তান

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের মতো একই সক্ষমতা ও একই প্রযুক্তির পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে কাজাখস্থান। এতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তি ব্যবহার করবে রাশিয়া। দেশটির বলখাশ এলাকায় নির্মিতব্য এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট করে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট থাকবে।
এ লক্ষ্যে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু করপোরেশন রসাটম এবং কাজাখস্তান নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টস এলএলপি (কেএনপিপি) একটি ইপিসি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরামের সাইডলাইনে চুক্তিটি সই হয়।
চুক্তিতে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সই করেন রসাটমের পারমাণবিক শক্তিবিষয়ক প্রথম উপমহাপরিচালক ও অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রভ এবং কেএনপিপির মহাপরিচালক এরনাত বেরদিগুলভ। অনুষ্ঠানে রসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ এবং কাজাখস্তানের পারমাণবিক শক্তি এজেন্সির চেয়ারম্যান আলমাসাদাম সাতকালিয়েভ উপস্থিত ছিলেন।
আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের নেতৃত্ব দেওয়া রসাটম প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন তদারকি করবে। এর আওতায় নকশা প্রণয়ন, যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, নির্মাণ, কমিশনিং এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রটি গ্রাহকের কাছে হস্তান্তরের কাজ থাকবে।
রসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ বলেছেন, ‘প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও দক্ষতার মান বজায় রেখে বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণ এবং এর নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’
ভিভিইআর-১২০০ একটি পরীক্ষিত প্রযুক্তি, যা কঠোর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান পূরণে সক্ষম। রাশিয়া, বেলারুশ, তুরস্ক, বাংলাদেশ, হাঙ্গেরি, মিসর ও চীনে এই প্রযুক্তির ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে অথবা নির্মাণাধীন রয়েছে। এসব রিঅ্যাক্টরের নির্ধারিত কার্যকাল ৬০ বছর। প্রয়োজনে তা আরও ২০ বছর বাড়ানো সম্ভব।
২০২৫ সালের আগস্ট থেকে বলখাশ এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য সাইটের উপযুক্ততা যাচাইয়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে। এই কার্যক্রম ২০২৭ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর নির্মাণের অনুমতি পেতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরির কাজ শুরু হবে।






