খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
৫০ একরের জায়গা বাতিল, ১০০ একরের প্রক্রিয়া শুরু

মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের প্রস্তাবিত নকশা। ছবি: সংগৃহীত
বদলে যাচ্ছে খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান। অর্থাৎ বর্তমানে ৫০ একরের অধিগ্রহণ করা জায়গা বাতিল করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ১০০ একরের জায়গা নিতে শুরু করা হচ্ছে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া। ‘খুলনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এর মহাপরিকল্পনা আওতাধীন ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন ও মৌলিক অবকাঠামো নির্মাণ’ প্রকল্পের প্রথম স্টিয়ারিং কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ২০ আগস্ট স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সন্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
সভা সূত্র জানায়, সভার সভাপতি কামরুজ্জামান প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চান। এর জবাবে প্রকল্প পরিচালক জানান, ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলাধীন খোলাবাড়িয়া মৌজায় ৫০ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। এ প্রেক্ষিতে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, মাস্টারপ্লান ও অবকাঠামোর ড্রয়িং ডিজাইন এর ভিত্তিতে তিনটি প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এর প্রথম ধাপের প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন, একটি প্রশাসনিক ভবন, দুটি একাডেমিক ভবন, একটি ইউটিলিটি ভবন এবং প্রয়োজনীয় গেটসহ সীমানা প্রাচীর নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত করে প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছিল।
সভায় খুলনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.রফিকুস সালেহীন জানান, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ৫০ একর ভূমি অপ্রতুল হওয়ায় জমির পরিমাণ বাড়ানোর জন্য গত ১৩ এপ্রিল খুলনার জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ মে জেলা প্রশাসক আগের অনুমোদন করা ৫০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তব বাতিল করার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় বরাবর প্রস্তাব পাঠান। গত ২৬ জুন এল এ কেস ০৭/২৫-২৬ বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাতিল করেন। এসময় প্রকল্প পরিচালক বলেন, খুলনা জেলার দৌলতপুর থানার তেলিগাতি ও মহেশ্বরপাশা মৌজার আওতাধীন ১০০ একর ভূমি নতুন করে অধিগ্রহণের জন্য দাগসূচিসহ প্রস্তাব এ স্বস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) বলেন, নতুনভাবে প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদানের জন্য ১০০ একর জমির দাগসূচি, তফসিল ও ম্যাপসহ পাঠাতে হবে। এসময় সভার সভাপতি কাসরুজ্জামান এসব তথ্য সম্বলিত পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব পাঠানোর জন্য প্রকল্প পরিচালককে নির্দেশনা দেন।
সূত্র জানায়, দেশের স্বাস্থ্য শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্দেশ্যে খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন ও মৌলিক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এটির মেয়াদ ধরা হয় ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। প্রাক্কলিত ব্যয় ১ হাজার ৮৭৪ কোটি ৫৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা। চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে এডিপিতে বরাদ্দ আছে ৫৪১ কোটি ৫৭ লাখ ১২ হাজার টকা। প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ৯ মে তারিখে একনেক সভায় অনুমোদিত হয় এবং ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর প্রশাসনিক আদেশ জারি করা হয়।
অগ্রগতির বিষয়ে সভাপতি জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক বলেন, বর্তমানে প্রকল্পের জন্য সৃষ্ট পিএল অ্যাকাউন্টের আয়ন ব্যয়ন কর্মকর্তা পরিবর্তনের কার্যক্রম চলমান। অর্থ ছাড়ের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুমোদন করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
সভা সূত্র জানায়, সভাপতি প্রস্তাবিত নতুন জমির জন্য ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) সংশোধন বিষয়ে জানতে চান। এর জবাবে প্রকল্প পরিচালক বলেন, চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে পরামর্শক খাতে ৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এ বরাদ্দ বিভাজনের মাধ্যমে আগামী ৮ মাসের মধ্যে নতুন নির্ধারিত জমিতে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা যাচাই, মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন এবং ড্রয়িং ডিজাইন অনুযায়ী প্রাক্কলন করে সংশোধিত ডিপিপি পাঠানো সম্ভব হবে।
এ প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) বলেন আগামী কত দিনের মধ্যে এ ডিজাইন প্রস্তুত সম্ভব হবে। এর জবাবে খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) জানান, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালার-২০২৫ এর বিধি ২০ অনুসারে ক্রয়কার্য প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতিতে ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস অব বাংলাদেশের। বিধিমালার বিধি ১৩২ অনুসারে ডিজাইন প্রতিযোগিতার নির্বাচন পদ্ধতিতে উন্মুক্ত প্রতিযোগীতার মাধ্যমে সেরা মাস্টারপ্ল্যান এবং ড্রইং ডিজাইন তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। প্রাপ্ত অবকাঠামো নকশার ভিত্তিতে পরবর্তী ৩ মাসের মধ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা যাচাই ও প্রাক্কলন শেষ কওে সংশোধিত ডিপিপি পাঠানো যাবে।
প্রকল্প পরিচালক বলেন, যেহেতু অনুমোদিত প্রকল্পের ব্যাপ্তি ও কর্মপরিধি পরিবর্তিত হয়েছে এ প্রেক্ষিতে ও ডিপিপির বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন করা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, অনুমোদিত প্রকল্পের জনবল নির্ধারিত ৮ জন। প্রয়োজনীয়তার নিরিখে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে অনুমোদিত জনবলের মধ্যে প্রকল্প অফিসের জন্য কোনো নিরাপত্তা প্রহরী অনুমোদিত নেই। এজন্য ২ নিরাপত্তা প্রহরী, সেই সঙ্গে অতিরিক্ত একজন কম্পিউটার অপারেটর, এক জন অফিস সহায়ক আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
এ প্রেক্ষিতে সভাপতি অর্থ মন্ত্রণালয় এর প্রতিনিধির মতামত জানতে চান। এর উত্তরে অর্থমন্ত্রণালয়ের বাজেট-২ শাখার যুগ্ম সচিব রওনক জাহান জানান, এ সংক্রান্ত প্রস্তাব পাওয়ার প্রেক্ষিতে কমিটির মাধ্যমেসিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হবে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেন বলেন, খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন। পরবর্তীতে সংশোধিত ডিপিপিতে জনবল সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব সচিব বরাবর পাঠাতে হবে।







