মঈন খান
শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি সৃজনশীল কার্যক্রমে যুক্ত হতে হবে

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে বক্তব্য দেন ড. আবদুল মঈন খান
শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি বিতর্ক, সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য সৃজনশীল কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটরিয়ামে ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি—অ্যাকশনএইড ন্যাশনাল ডিবেট ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীরা দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব। আগামী ১০, ১৫ বা ২০ বছর পর তারাই দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করবেন। তাই এখন থেকেই ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।’
মন্ত্রী বললেন, ‘বিতর্ক শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর চিন্তা, মত প্রকাশ ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে শুধু বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়; শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক জ্ঞান ও দক্ষতা বিকাশে বিভিন্ন সৃজনশীল ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে হবে।’
ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণা করে মঈন খান বলেন, ‘প্রায় ৬০ বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের শিক্ষার্থী হিসেবে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতাম। হলের প্রতিনিধিত্ব করে টানা তিন বছর চ্যাম্পিয়ন হয়েছি।’
মন্ত্রী বলেন, ‘ছাত্রসমাজের একটি বিশেষ শক্তি হলো তারা অন্যায় ও অসংগতির বিরুদ্ধে কথা বলার সক্ষমতা রাখে। বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন সময় ছাত্রসমাজ গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে। এ শক্তি ও দায়িত্ববোধকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে হবে।’
তিনি বলছিলেন, ‘একটি দেশের অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি হলো মানসম্মত শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়। জ্ঞান, গবেষণা ও শিক্ষার শক্তির ওপর ভিত্তি করেই একটি দেশ দীর্ঘমেয়াদে এগিয়ে যেতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ঐতিহ্য ধরে রাখতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।’
ডিবেট ফেস্টিভ্যালের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ডিবেটিং সোসাইটিকে শুধু বিতর্ক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও নেতৃত্বে সমৃদ্ধ একটি নতুন প্রজন্ম গড়ে উঠবে, যারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বিশ্বপরিসরে আরও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে ভূমিকা রাখবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি (ডিইউডিএস) ও অ্যাকশন-এইডের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪টি দল অংশগ্রহণ করছে।



