আইএইএ অধিবেশন
পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের

সংগৃহীত ছবি
পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৭০তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের বক্তব্যে এ অঙ্গীকারের কথা জানান তিনি।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে বক্তব্য দেন মন্ত্রী।
আজ মঙ্গলবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বক্তব্যে বিজ্ঞানমন্ত্রী আইএইএ-এর মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসিকে পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে আইএইএ-এর টেকনিক্যাল কোঅপারেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, পানি ব্যবস্থাপনা, শিল্প ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সুফল পেয়ে আসছে। সম্প্রতি ২০২৬ থেকে ২০৩২ মেয়াদের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ফ্রেমওয়ার্ক (সিপিএফ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন ফকির মাহবুব আনাম।
তিনি বলেন, ইউনিট-১-এ জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। এতে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
পারমাণবিক নিরাপত্তার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, পারমাণবিক বর্জ্য ও ব্যবহৃত জ্বালানি ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত যৌথ কনভেনশনে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি নিরাপদ ও দায়িত্বশীল পারমাণবিক কর্মসূচির প্রতি দেশের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।
সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান মন্ত্রী।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, খাদ্য ও কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণেও এ প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।
বিশেষ করে ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণে আইএইএ-এর ‘রেজ অব হোপ’ উদ্যোগের আওতায় সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তরুণ গবেষক ও বিজ্ঞানীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো বাংলাদেশের অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন বিজ্ঞানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার টেকসই উন্নয়ন, জনকল্যাণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে।
বক্তব্যের শেষে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির প্রসার, পারমাণবিক নিরাপত্তা জোরদার এবং টেকসই উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার আহ্বান জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী।



