মৌসুমি বায়ু সক্রিয় ভারী বৃষ্টির শঙ্কা
- ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিতে ঢাকায় জলজট

সংগৃহীত ছবি
হঠাৎ করেই গতকাল শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে কালো মেঘে ছেয়ে যায় রাজধানীর আকাশ। অল্প সময়ে শুরু হয় ঝুমবৃষ্টি। মাত্র দুই ঘণ্টায় ঢাকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ৪৩ মিলিমিটার। এতে রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। দুর্ভোগে পড়েন পথচারী ও নগরবাসী।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারা দেশে সম্পূর্ণভাবে সক্রিয় হয়েছে মৌসুমি বায়ু। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এরই মধ্যে বেড়েছে বৃষ্টিপাত। আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও আশঙ্কা রয়েছে।
‘মৌসুমি বায়ু সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। তবে এ সময় এর সক্রিয়তা সবসময় একরকম থাকে না। কখনো এটি বেশি সক্রিয়, কখনো মাঝারি এবং কখনো তুলনামূলক দুর্বল। এর ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হয় দেশে বৃষ্টিপাতের ধরন। তবে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা কতটা থাকবে, তা অনেক আগেই নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন— আগামীর সময়কে ব্যাখ্যা দিলেন আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক।
তাপমাত্রা নিয়ে তার ভাষ্য, বৃষ্টি হলেও বর্তমানে দেশে পুরোপুরি শীতল পরিবেশ তৈরি হয়নি। কারণ এখনো বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি। ফলে বেশি অনুভূত হচ্ছে গরম।
তিনি যোগ করলেন, টানা বৃষ্টি হলে অনেকটাই কমে আসবে গরমের অনুভূতি। কিন্তু এখন পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টিপাত হয়নি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বিস্তৃত রয়েছে। পাশাপাশি দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে সারা দেশে দফায় দফায় বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আজ শনিবার সারা দেশে একই ধরনের আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং অন্যান্য বিভাগেও কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে— উল্লেখ করা হলো আবহাওয়া পূর্বাভাসে।
আগামীকাল রবি ও সোমবার বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকবে দেশের প্রায় সব বিভাগেই। বিশেষ করে, উত্তর-পূর্ব ও উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে কোথাও কোথাও।
রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে ১৬ জুন। অন্যান্য বিভাগেও দফায় দফায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।




