মশা মারতে দুই সিটির কামানে ‘নতুন গোলা’
- ফের বিটিআইসহ নতুন কীটনাশক আনছে ডিএনসিসি
- লার্ভা নিধনে দক্ষিণ সিটি ব্যবহার করবে নোভালিউরন ট্যাবলেট
- ডিএনসিসি বিটিআইয়ের পরীক্ষা করেছে গত বছরের মার্চে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মশা মারতে ফের নতুন কীটনাশক আনার পরিকল্পনা করছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এরই মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নতুন কীটনাশক আনার ব্যাপারে ফাইলপত্র চালাচালি শুরু করেছে। অন্যদিকে, উত্তর সিটি কম্বিনেশন অব থ্রি (কীটনাশকের নাম নয়, তিনটি রাসায়নিকের সমষ্টি) এবং আবারও বিটিআই কীটনাশক আনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে নতুন কীটনাশক কবে আমদানি হবে, এখনই সুনির্দিষ্ট করে জানাতে পারেনি সংস্থাটি।
জুন মাস পার হলেই নগরবাসীর মনে জুজুর মতো চেপে বসে ডেঙ্গুর আতঙ্ক। এবারও সেই আতঙ্কে দিন পার করছে রাজধানীবাসী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ২৪ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় ১২ হাজার ২০১ এবং একই সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৩৯ জনের। ক্রমাগত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর তথ্য ভাবিয়ে তুলেছে ঢাকার দুই সিটিকেও। কিছুদিন ধরেই সংস্থা দুটি নতুন কীটনাশক আনার ব্যাপারে নীরবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যার ফল হয়তো চলতি বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ দৃশ্যমান হবে নগরবাসীর কাছে। এবার দুই সিটি তিনটি নতুন কীটনাশক প্রয়োগ করবে মশা নিয়ন্ত্রণে।
বর্তমানে ডিএসসিসি মশা নিধনে দুটি কীটনাশক ব্যবহার করে। লার্ভিসাইডিংয়ে বা মশার লার্ভা নিধনে টেমিফস এবং পূর্ণাঙ্গ মশা নিধন বা অ্যাডাল্টিসাইডিংয়ের জন্য সংস্থাটি ব্যবহার করে ম্যালাথিয়ন ৫ শতাংশ। এ ছাড়া জমা পানিতে লার্ভিসাইডিংয়ের জন্যও টেমিফস ব্যবহার করে দক্ষিণ ঢাকা। নতুন করে শিগগিরই জমা পানির লার্ভা নিধনে ডিএসসিসি প্রয়োগ করতে যাচ্ছে নোভালিউরন ট্যাবলেট।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে নোভালিউরন ট্যাবলেট আনার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে কারণেই নতুন করে এই কীটনাশক আনার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। এরই মধ্যে নোভালিউরন ট্যাবলেট আনার জন্য ফাইল প্রক্রিয়াধীন— জানালেন এক কর্মকর্তা। যদিও দক্ষিণ সিটির কর্মকর্তারা মনে করেন, জমা পানিতে বা পানির মিটারহোলের লার্ভা নিধনে টেমিফসই ভালো কাজ করে। তবে এসব জায়গায় দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে নোভালিউরন ট্যাবলেট কিনতে বলায় ভবিষ্যতে মিটারহোল এবং নির্মাণাধীন ভবনের যেসব জায়গায় পানি জমে থাকে বা জমিয়ে রাখা হয়, সে ধরনের অল্পকিছু জায়গায় এই ট্যাবলেট প্রয়োগের কথা জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ।
এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান আগামীর সময়কে বলেছেন, নোভালিউরন ট্যাবলেট ব্যবহার করতে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে। ফলে সেটি ব্যবহার করা হবে। তবে কবে নাগাদ এবং প্রাথমিকভাবে কী পরিমাণ ট্যাবলেট প্রয়োগ করা হবে, সেসব নিয়ে কোনো তথ্য দেননি এই কর্মকর্তা। অন্যদিকে, বর্তমানে উত্তর সিটি করপোরেশন লার্ভিসাইডিংয়ের জন্য টেমিফস কীটনাশক ব্যবহার করে। তবে জমা পানির লার্ভা মারার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই নোভালিউরন ট্যাবলেট ব্যবহার করে আসছে ডিএনসিসি। অ্যাডাল্টিসাইডিংয়ের জন্য সংস্থাটি ব্যবহার করে ম্যালাথিয়ন ৫ শতাংশ। এবার এই তিন কীটনাশকের পাশাপাশি আরও নতুন দুটি কীটনাশক প্রয়োগ করবে উত্তর সিটি। যার একটি বাসিলাস থুরিনজেনসিস ইসরায়েলেনসিস (বিটিআই), যা জমা পানির লার্ভা ধ্বংস করবে। অন্যটি কম্বিনেশন অব থ্রি। এটি মূলত কোনো একক কীটনাশকের নাম নয়, তিনটি রাসায়নিকের একটি সংমিশ্রণ। যার মধ্যে রয়েছে ডাইমেফ্লুথ্রিন শূন্য দশমিক তিন শতাংশ, মেপারফ্লুথ্রিন শূন্য দশমিক দুই শতাংশ এবং এসবায়োথ্রিন শূন্য দশমিক এক শতাংশ। সংস্থাটির দাবি, এই তিন কীটনাশকের তিন ধরনের বৈশিষ্ট্য পূর্ণাঙ্গ মশাকে সম্পূর্ণ মেরে ফেলতে সক্ষম।



