সাজা শেষ, তবুও শিলং জেলে বন্দি ১৫ বাংলাদেশি

সংগৃহীত ছবি
সাজা শেষ হওয়ার পরও শিলং জেলে বন্দি রয়েছে ১৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক। তাদের সঙ্গে একই জেলে রয়েছেন মিয়ানমার ও নাইজেরিয়ার একজন করে নাগরিকও। বিষয়টি সামনে আসার পর মেঘালয় হাইকোর্টে বিদেশি নাগরিকদের দীর্ঘদিন আটক থাকার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মিয়ানমারের ওই ব্যক্তি সাজা শেষ হওয়ার পরও ১০ বছরের বেশি সময় ধরে জেলে রয়েছেন। একইভাবে, এক বাংলাদেশি নাগরিক নির্ধারিত সাজা শেষ হওয়ার পর আরও চার বছরের বেশি সময় কারাগারে কাটিয়েছেন। অন্যদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বন্দিত্বের মেয়াদ ছয় মাস থেকে প্রায় দুই বছর পর্যন্ত।
এসব তথ্য সামনে আসে মেঘালয় হাইকোর্টের একটি দল শিলং জেলা জেল পরিদর্শনে যাওয়ার পর। সেখানে দেখা যায়, ১৭ জন বিদেশি নাগরিক তাদের সাজা শেষ হওয়ার পরও জেলে রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল খালিদ খান আদালতকে জানিয়েছিলেন, ২৮ আগস্ট চিঠির ভিত্তিতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাজা শেষ হওয়ার পর এক বছরের বেশি সময় ধরে জেলে রয়েছেন মাত্র একজন বাংলাদেশি নাগরিক। শুনানিতে রাজ্য সরকার জানায়, মেঘালয়ের বিভিন্ন জেলে সাজা শেষ হয়ে গেলেও এখনো ২৮ জন বিদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন। তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত রাখার জন্য এক সপ্তাহের মধ্যে উপযুক্ত ডিটেনশন বা হোল্ডিং সেন্টার চিহ্নিত করা হবে।
মামলাটির শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি রেবতী মোহিতে ডেরে এবং বিচারপতি ডব্লিউ ডিয়েংদোহের ডিভিশন বেঞ্চে। অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল কে খান জানান, হোল্ডিং সেন্টার চিহ্নিত হওয়ার পর বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ নেবে, তা জানিয়ে হলফনামা দেওয়া হবে। এই তথ্যের অসংগতি নিয়েও আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে।
আদালত জানিয়েছে, সাজা শেষ হওয়ার পর কোনো বিদেশি নাগরিককে সাধারণ জেলে আটকে রাখা আইনসংগত নয়। তাদের ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তরের প্রয়োজন ছিল। অতিরিক্ত সময় আটকে রাখার জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও উপযুক্ত সময়ে বিবেচনা করা হবে।
শুনানিতে রাজ্য সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা আদালতে হাজির হন। তাদের মধ্যে ছিলেন স্বরাষ্ট্র (রাজনৈতিক) দপ্তরের কমিশনার ও সচিব রোসেটা মেরি কুরবাহ, স্বরাষ্ট্র (কারা) দপ্তরের কমিশনার ও সচিব রিনথিহলাং রাপথাপ, কারা দপ্তরের আইজি জেনিথ সাংমা এবং পুলিশ সুপার তথা ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অফিসার বিবেক সিয়েম।
মেঘালয় সরকার জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে বন্দি বিদেশি নাগরিকদের দ্রুত প্রত্যর্পণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ এবং বিদেশি নাগরিক হিসেবে নথিভুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ করতেও তাদের সহায়তা করা হবে। যারা ভারতীয় নাগরিককে বিয়ে করেছেন এবং এ দেশে যাদের সন্তান রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও অন্যান্য আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ করতে সহায়তা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মেঘালয় স্টেট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটিকেও এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে।
মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে ১৭ সেপ্টেম্বর।



