একরামুল হত্যা মামলা
সেনা হেফাজতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে তৎকালীন র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল) মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে নেওয়া হয়েছে সেনা হেফাজতে। সোমবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
আইএসপিআর জানায়, বরিশাল অফিসার্স মেস থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নিয়ে ঢাকায় আনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেনা কাস্টডিতে রয়েছেন এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ। তাকে ঢাকা সেনানিবাসে আনার পর রাখা হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে।
রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একরামুল হক হত্যা মামলায় অভিযোগ দাখিল করা হয়। ওই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ওই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্ধারিত তারিখে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে কক্সবাজারের টেকনাফে পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক নিহত হন। ওই ঘটনায় তৎকালীন র্যাব-৭-এর অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মিফতাহ উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। একরামুল হককে গুলি করে হত্যার সময় ঘটনাস্থলে মিফতাহ উদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।
এদিকে, ২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর যেসব বাংলাদেশি কর্মকর্তার ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, তাদের মধ্যে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের পাশাপাশি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদের নামও ছিল।




