অবস্থা খুবই নাজুক

ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম সোলায়মান
ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম সোলায়মান বলেছেন, দুই বছর ধরে দেশের বস্ত্রশিল্পের অবস্থা খুবই নাজুক। সারা দেশে ৭০০টি স্পিনিং মিল থাকলেও এখন ১৫০টির মতো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। আমার নিজের প্রতিষ্ঠানের টার্নওভার ৩০ শতাংশ কমেছে। অনেকে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ লোকসান দিয়ে ব্যবসা করছেন। ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন কারণে হিমশিম খাচ্ছেন। স্পিনিং মিলগুলোয় কাঁচামাল ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট রয়েছে। তুলা, সুতা, মেশিনারিজ— সব জায়গায়ই সংকট রয়েছে। অথচ করোনাকালে আমরা গার্মেন্ট সেক্টরে ৮০ শতাংশ সুতা সরবরাহ করেছিলাম।
তিনি জানান, বর্তমানে বিশ্ববাজার মন্দা হওয়ায় আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত বিশেষ প্রণোদনা দিয়ে কম মূল্যের সুতা আমাদের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছে। আমরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছি না। কিছুদিন ধরে ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হলেও প্রায় মুমূর্ষু স্পিনিং সেক্টরে এটি যথেষ্ট নয়। সরকারকে আরও বিশেষভাবে নজর দিতে হবে।
তিনি বলেছেন, ৫০ শতাংশ স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে গেছে। এরপরও কীভাবে চলছে এমন প্রশ্ন এলে বলা যেতে পারে চালু রাখলে ২ কোটি টাকা লস হয়, বন্ধ রাখলে ৫০-৬০ লাখ টাকা লোকসান হয়। বর্তমানে এই সেক্টরে নতুন কোনো বিনিয়োগ হচ্ছে না।
এম সোলায়মান সভাপতি ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন
ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভ্যাট-ট্যাক্স কমাতে হবে। সুতা আমদানি করতে ব্যাংকে লেনদেন করতে গেলে টার্নওভার যেখানে ছিল পয়েন্ট ২৫ এখন সেটি বেড়ে ১ শতাংশ। আমরা তো হাফ পারসেন্ট লাভও করতে পারি না। টার্নওভারটা যাতে আগে যেটি ছিল সেখানে নিয়ে আসে সরকার।
এম সোলায়মান বলেছেন, সারা বাংলাদেশে ৬ হাজার এবং নারায়ণগঞ্জে ১ হাজার ৫০০ ইয়ার্ন ব্যবসায়ী রয়েছে। ব্যবসায়ীরা প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের কারণে মাধবদী শেখের চর, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ প্রোডাকশন ৫০ পারসেন্টে নেমে এসেছে, তাঁতিরা ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না। দেড় হাজার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অনেক বন্ধ হয়ে গেছে। লাখ লাখ তাঁতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অর্থাভাব তো আছেই, কাপড় বেচাকেনা কম পাশাপাশি ইসলামপুরের কিছু পার্টি বন্ড সুতা এনে অবৈধভাবে বিক্রি করছে। বন্ড সুতা কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অপব্যবহার করে, এর প্রভাব মার্কেটে পড়ে। সরকার ট্যাক্স থেকে বঞ্চিত হয়। বিশেষ করে তাঁতশিল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখানে তাঁতিরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই দুই ব্যবসার প্রভাব গার্মেন্টেসও পড়েছে। তারা কোনোরকমে টিকে আছে।




