আফসোস করে বলতেন ‘কেউ আসে না’

‘এইসব দিনরাত্রি’ নাটকের দৃশ্য - বিটিভি
নির্মাতা ও বিটিভির প্রযোজক মুস্তাফিজুর রহমান গত রবিবার রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসায় ৮২ বছর বয়সে মারা গেছেন। তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন অভিনেত্রী ডলি জহুর
মুস্তাফিজুর রহমান ভাইয়ের প্রযোজনায় ‘দক্ষিণের জানালা’ ছিল আমার প্রথম নাটক। এতে যুগলু ভাই আর আমি কাজ করেছিলাম। এরপর ‘এইসব দিনরাত্রি’, অনেক দিন পর আবার করলাম ‘শঙ্খনীল কারাগার’। এর মাঝেও কাজ করেছি, এখন মনে পড়ছে না। তিনি শান্ত প্রকৃতির একজন নির্মাতা ছিলেন। কখনো দেখিনি ফ্লোরে দাঁড়িয়ে চিৎকার করছেন, রাগ করছেন বা কাউকে ধমকাচ্ছেন। খুব ধীরে ও শান্তভাবে কথা বলতেন। নাটকের সেটে ভুলভাল হতেই পারে। একদিন বললাম, ‘মুস্তাফিজ ভাই, আমাদের সেটের এই ডান দিক থেকে পাল্লাটা ছিল, আজকে তো বাঁ দিক থেকে পাল্লা দেওয়া হয়েছে। এটা ভুল আছে এখানে।’ এরপর থেকে মুস্তাফিজ ভাই প্রায়ই বলতেন, ‘আমার অ্যাসিস্ট্যান্ট কোথায়?’ প্রথম প্রথম হয়তো অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর দৌড়ে যেত। পরে বোঝা গেলো, উনি আমাকেও খুঁজছেন! আমি সেটে থাকলে বলতেন, ‘ডলি, দেখে নাও তো। লাস্ট একটা চেক করো।’
মাঝে অনেক দিন তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল না। পরে যখন গিয়েছিলাম, তখন তিনি অসুস্থ। হুইলচেয়ারে থাকতেন। আফসোস করে বলতেন, ‘কেউ আসে না।’ শেষবার গিয়েছিলাম, মনে হয় ২০-২৫ দিন আগে। বেশি কথা বলতেন না। চুপ করে তাকিয়ে থাকতেন।
আমার বাসার উল্টোদিকে একটা পার্ক ছিল। আমার ঘর থেকে মাঝেমধ্যে দেখতাম, মুস্তাফিজ ভাই আস্তে আস্তে হাঁটছেন, পকেটে হাত দিয়ে। তিনি খুব জোরে জোরে হাঁটতেন না। মাঝেমধ্যে বাসার নিচে নামলে তার সঙ্গে পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে অনেক বিষয়ে কথা হতো।
‘শঙ্খনীল কারাগার’-এর সময় একটা বিষয় ছিল। হুমায়ূন আহমেদ চেয়েছিলেন, ‘শঙ্খনীল কারাগার’-এর রাবেয়া চরিত্রে সুবর্ণা মুস্তাফা কাজ করবে। কিন্তু মুস্তাফিজ ভাই বলেছিলেন, ‘না, চরিত্রটিতে ডলি ফিট। ডলিকেই নেব। শেষ পর্যন্ত আমি ওই চরিত্রে কাজ করেছি।’
‘শঙ্খনীল কারাগার’-এর জন্য জীবনে প্রথম জাতীয় পুরস্কার পেলাম।
মুস্তাফিজুর রহমানের উল্লেখযোগ্য নির্মাণ
ধারাবাহিক নাটক
সকাল সন্ধ্যা (১৯৭৯)
এইসব দিনরাত্রি (১৯৮৫)
একক নাটক
একদিন হঠাৎ (১৯৮৬)
প্রিয় পদরেখা (১৯৯২)
পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র
শঙ্খনীল কারাগার (১৯৯২)





