লিপিকলা টাইপটক-২০২৬
বাংলা টাইপ ডিজাইনের বিবর্তন ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলাপ

সোমবার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে বার্ষিক সম্মেলন ‘লিপিকলা টাইপটক—২০২৬’
স্বাধীন টাইপ ডিজাইন স্টুডিও ও গবেষণাভিত্তিক প্লাটফর্ম লিপিকলা টাইপ ফাউন্ড্রির আয়োজনে সোমবার রাজধানীর বাংলামোটরের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে বার্ষিক সম্মেলন ‘লিপিকলা টাইপটক—২০২৬’।
বাংলা টাইপ ডিজাইনের বিবর্তন, বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে টাইপ ডিজাইন, গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা একত্রিত হন এ সম্মেলনে।
সম্মেলনের মূল আলোচনা উপস্থাপন করেন নিউ এজের ডেপুটি এডিটর ও বাংলা টাইপোগ্রাফি বিষয়ক সাময়িকী ‘হরফচর্চা’-এর সম্পাদকীয় সহযোগী আবু জার মো. আককাস এবং খ্যাতিমান টাইপ ডিজাইনার ও গবেষক বাংলা টাইপ ফাউন্ড্রির প্রতিষ্ঠাতা জ্যাকব থমাস।
আবু জার মো. আককাস তার বক্তব্যে বাংলা টাইপ ডিজাইনের ইতিহাস এবং প্রাচীন ব্রাহ্মী লিপি থেকে আধুনিক বাংলা টাইপ ডিজাইনে ফন্টের ঐতিহাসিক বিবর্তন তুলে ধরেন। অন্যদিকে জ্যাকব থমাস বাংলা টাইপ ডিজাইনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এবং বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলা টাইপ ডিজাইনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের অধ্যাপক মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘বাংলা অক্ষরের আকৃতি, স্টাইলাইজেশন ও রেখার ব্যবহার টাইপফেস তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’
অনুষ্ঠানের আলোচক শিল্পী ও টাইপ ডিজাইনার আনিসুজ্জামান সোহেল বলেন, ‘টাইপফেস ডিজাইনারদের কাজের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে পর্যাপ্ত সুযোগ ও পরিসরের অভাব রয়েছে।’ তিনি সমকাল পত্রিকার লোগো তৈরির সময় প্রয়াত শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়ার একটি পেশাগত স্মৃতিও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন।
এছাড়াও ইবিএলআইসিটি প্রকল্পের অ্যাডভাইজার মামুন অর রশীদ ফন্টের পাইরেসি ঠেকাতে টাইপ ও ইন্টালেকচুয়াল প্রপার্টির কপিরাইট বিষয়ে টাইপ ডিজাইনারদের সচেতন হতে বলেন।
আলোচনায় আরও যুক্ত ছিলেন অভ্র টিমের অন্যতম ডেভেলপার তানভিন আহমেদ সিয়াম, প্রযুক্তিবিদ ও ‘একুশে’ প্রজেক্টের প্রতিষ্ঠাতা অমি আজাদ, বিশিষ্ট টাইপফেস ডিজাইনার ও ডেভেলাপার মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, কোডপত্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ডেভেলপার জায়েদ আহসান সাদসহ টাইপ ডিজাইন ও টাইপোগ্রাফি কমিউনিটির আরো অনেকেই।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন লিপিকলা টাইপ ফাউন্ড্রির ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ও প্রতিষ্ঠাতা কাজী যুবাইর মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘লিপিকলার যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলা টাইপকে শুধু একটি ডিজাইনের বিষয় হিসেবে নয়, ভাষা, সংস্কৃতি ও ভিজ্যুয়াল পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখার জায়গা থেকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘লিপিকলা টাইপটক সেই ভাবনা থেকেই শুরু হয়েছে। আমরা চাই, এখানে অভিজ্ঞ টাইপ ডিজাইনার ও গবেষকদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের ডিজাইনার, শিক্ষার্থী এবং বাংলা টাইপ নিয়ে আগ্রহী মানুষেরাও তাদের ভাবনা ও প্রশ্ন নিয়ে অংশ নিক। বাংলা টাইপের ভবিষ্যৎ আরও সমৃদ্ধ করতে আমাদের প্রয়োজন সম্মিলিতভাবে শেখা, প্রশ্ন করা এবং নিজেদের কাজকে সমালোচনার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নেওয়া। আজকের এই আয়োজন সেই ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’
উল্লেখ্য, লিপিকলা টাইপটকের যাত্রা শুরু হয় ২০২৫ সালে, লিপিকলা টাইপ ফাউন্ড্রির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে। সে সময় বাংলা বর্ষপঞ্জির ১২ মাসের নামে ১২টি নতুন টাইপফেস উন্মোচন করা হয়। বার্ষিক এই টাইপটক উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলা টাইপ ডিজাইন, টাইপোগ্রাফি, লেটারিং ও টাইপ কালচার নিয়ে গবেষণা ও জ্ঞান বিনিময়ের একটি টেকসই প্লাটফর্ম গড়ে তুলতে চায় লিপিকলা টাইপ ফাউন্ড্রি।








