সাংবাদিক মাহবুব আলম লাবলুকে হুমকি, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ

সাংবাদিক মাহবুব আলম লাবলু
আগামীর সময়ের ক্রাইম অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন অ্যাফেয়ার্স এডিটর মাহবুব আলম লাবলুকে চাকরিচ্যুতির চাপ, মামলার হুমকি এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন।
বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ও বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) নেতৃবৃন্দ পৃথক বিবৃতি নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মাহবুব আলম লাবলুর বিরুদ্ধে সব ধরনের হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানান সাংবাদিক নেতারা। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।
এর আগে গত বুধবার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)। মাহবুব আলম লাবলু ক্র্যাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
গত ১৬ জুলাই আগামীর সময়ে ‘ইসি উপসচিবের প্রতিহিংসা, চাঁদাবাজির মামলায় জেলে যুক্তরাষ্ট্র ফেরত ছেলে, মায়ের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মানব পাচার মামলা’ শীর্ষক খবর প্রকাশিত হয়। এছাড়া ২৭ জুন ‘নারী নির্যাতন মামলা খারিজে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ দুই বিচায়কের বিরুদ্ধে’ শীর্ষক খবর প্রকাশিত হয়। এতে সিএমএম কোর্টের সাবেক বিচারক ও বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের উপসচিব (আইন) মো. ছানাউল্ল্যাহর নৈতিকস্খলন ও জাল-জালিয়াতি প্রকাশ পাওয়ায় মাহবুব আলম লাবলুকে চাকরিচ্যুতি ও মামলা করার আলটিমেটাম দেন তিনি।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, কোনো সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে প্রকাশিত অনুসন্ধানী ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদনের কারণে তাকে চাকরিচ্যুতির চাপ দেওয়া, মামলার ভয় দেখানো কিংবা অন্য কোনোভাবে হয়রানি করা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
তারা আর বলেছেন, সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে তার আইনগত ও নীতিগত প্রতিকারের পথ রয়েছে। কিন্তু একজন সাংবাদিককে চাকরিচ্যুতির হুমকি, মামলার ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা হয়রানির মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অপর এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সভাপতি মাসউদুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল বলেছেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে প্রকাশিত অনুসন্ধানী ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদনের কারণে কোনো সাংবাদিককে চাকরিচ্যুতির চাপ দেওয়া, মামলার ভয় দেখানো বা অন্য কোনোভাবে হয়রানি করা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী।
নেতৃদ্বয় আরও বলেছেন, সাংবাদিকদের স্বাধীন ও নির্ভয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদনের বিষয়ে আপত্তি থাকলে তার আইনগত ও নীতিগত প্রতিকারের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু একজন সাংবাদিককে ভয়ভীতি, চাকরিচ্যুতির চাপ বা হয়রানির মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য অশনিসংকেত।




