সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
ঢাকাসহ সারা দেশে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্প্রতি শান্তিনগরের পপুলার হাসপাতালের সামনে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজদের হামলায় আহত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে বিশেষ করে ঢাকা মেট্রোপলিটনসহ অন্যান্য মেট্রো এলাকায় যারা এরকম চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, তাদেরকে (আমি টাইম লিমিট দিচ্ছি না) অতিশীঘ্র যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হেফাজতে না নিতে পারে, আইনের আওতায় আনতে না পারে, তাহলে যারা যারা ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। চাঁদাবাজি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সম্প্রতি অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ আগস্ট রাতে শান্তিনগরে নিজের চেম্বার থেকে বের হওয়ার সময় সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যরা তার ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওই চক্রের সাত সদস্যের মধ্যে মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের একজনকে ঘটনাস্থল থেকে, একজনকে লক্ষ্মীপুর থেকে, একজনকে যাত্রাবাড়ীর দনিয়া থেকে এবং অপরজনকে সাঁতারকুল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করায় পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, চক্রটির মূল হোতা বিদেশে অবস্থানকালে হুন্ডি ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফিরে একটি অপরাধী চক্র গড়ে তোলে। বড় বড় হাসপাতাল, খ্যাতিমান চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও ধনাঢ্য পেশাজীবীদের টার্গেট করে প্রথমে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্ন ধরনের বার্তা পাঠানো হতো। এরপর শারীরিক হামলা চালিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করাই ছিল চক্রটির মূল উদ্দেশ্য।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজদের এ ধরনের কোনো অপতৎপরতা সহ্য করা হবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং চাঁদাবাজি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।
পুলিশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কেবল চাঁদাবাজ বা অপরাধীদের তালিকাই তৈরি করছি না; এসব চাঁদাবাজির সঙ্গে যদি পুলিশের কোনো সদস্য জড়িত থাকে বা সহায়তা করে, তবে তাদের তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, অপরাধী কিংবা তাদের মদদদাতা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর নিরাপত্তার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫০০টি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।
কোনো চিকিৎসক নিজস্ব চেম্বার বা ক্লিনিকে বিশেষ নিরাপত্তাঝুঁকি মনে করলে পুলিশকে অবহিত করার পরামর্শ দেন তিনি। প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে বলেও জানান মন্ত্রী।
এ সময় ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের যেকোনো নাগরিক বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে শর্টগান বা পিস্তলের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। কোনো চিকিৎসক নিজের নিরাপত্তার জন্য ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের প্রয়োজন মনে করে আবেদন করলে সরকারের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি প্রধান) মো. শফিকুল ইসলাম এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে যান। সেখানে একই চাঁদাবাজ চক্রের হুমকির শিকার চিকিৎসক ডা. এ কে এম আমিনুল হকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তার খোঁজখবর নেন।








