বাংলাদেশে এমপিরা যেসব সুযোগ-সুবিধা পান

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশে একজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর রাষ্ট্র তার জন্য বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দিয়ে থাকে। একজন সংসদ সদস্যর জন্য বাংলাদেশে সরকারিভাবে কী কী সুবিধা রয়েছে তা নিয়ে জনমনে নানা কৌতূহল।
নিচে আইনি কাঠামো থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এমপিদের প্রাপ্ত প্রধান সুবিধাগুলো তুলে ধরা হলো—
মাসিক সম্মানী
সংসদ সদস্যরা মাসিক ৫৫ হাজার টাকা হারে সম্মানী পান। এটি তাদের মূল পারিশ্রমিক, যা পুরো দায়িত্বকাল জুড়েই প্রযোজ্য।
নির্বাচনী এলাকা ভাতা
নির্বাচনী এলাকায় কাজ পরিচালনা, জনসংযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতার জন্য এমপিরা পান মাসিক ১২ হাজার ৫০০ টাকা।
আপ্যায়ন ভাতা
অতিথি আপ্যায়ন, সামাজিক যোগাযোগ ইত্যাদির জন্য মাসিক ৫ হাজার টাকা ভাতা নির্ধারিত।
শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা
সংসদ সদস্যদের একটি বড় সুবিধা হলো—দায়িত্বকালীন একটি গাড়ি/জিপ/মাইক্রোবাস; কাস্টমস ডিউটি, ভ্যাট, ডেভেলপমেন্ট সারচার্জ ও আমদানি পারমিট ফি ছাড়া আমদানির সুযোগ এবং ৫ বছর পর একই শর্তে আরেকটি নতুন গাড়ি আমদানির সুযোগ।
পরিবহন ভাতা
যাতায়াত, জ্বালানি, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতন মিলিয়ে এমপিরা মাসিক ৭০ হাজার টাকা পরিবহন ভাতা পান।
অফিস ব্যয় ভাতা
নির্বাচনী এলাকায় অফিস পরিচালনার জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
লন্ড্রি ও আনুষঙ্গিক ভাতা
প্রতি মাসে এমপিরা পান—লন্ড্রি ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য ব্যয় (রান্নার সরঞ্জাম, লিনেন, টয়লেট্রিজ) ৬ হাজার টাকা।
ভ্রমণ ভাতা (সেশন ও কমিটি)
সংসদ অধিবেশন বা কমিটির বৈঠকে অংশ নিতে—বিমান/রেল/জাহাজে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড়গুণ পর্যন্ত ভাতা এবং সড়কপথে ভ্রমণে কিলোমিটারপ্রতি ১০ টাকা পান।
দৈনিক ভাতা
দায়িত্ব পালনের সময় অবস্থান ভাতা—দৈনিক ভাতা ৭৫০–৮০০ টাকা এবং যাতায়াত ভাতা ৭৫–২০০ টাকা (উপস্থিতি রেকর্ডভিত্তিক) পান।
দেশে অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ
প্রতি বছর এমপিরা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা অথবা সমপরিমাণের নন-ট্রান্সফারেবল ট্রাভেল পাস পান।
চিকিৎসা সুবিধা
এমপি ও তাদের পরিবার সদস্যরা প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধা এবং মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান।
টেলিফোন সুবিধা
বাসভবনে সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগ এবং কল ও ভাড়া বাবদ মাসিক ৭ হাজার ৮০০ টাকা পান।
বীমা সুবিধা
দায়িত্বকালীন দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকার বীমা সুবিধা পান।
কর সুবিধা
এই আদেশ অনুযায়ী প্রাপ্ত ভাতাগুলো আয়করমুক্ত।
ঐচ্ছিক অনুদান
জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয়ের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পান।



