শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খাবার খেলেন প্রধানমন্ত্রী, কাল দেবেন পুরস্কার
- জাতীয় পর্যায়ে সেরা ১০০ দলের বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনী
- ইনোভেটিভ আইডিয়ার উৎসাহিত করতে এমন উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর
- একযোগে ২৯ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ

ছবি: আগামীর সময়
স্কুল শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে তাদের সঙ্গে খাবার খেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল সোমবার তাদেরকে পুরস্কৃত করবেন। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সারা দেশ থেকে এই কিশোরদের তুলে আনা হয়েছে। তারা এখন চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ব্যস্ত সময় পার করছে।
সম্মেলন কেন্দ্রে কেউ তৈরি করছে স্বল্প খরচের সেচব্যবস্থা, কেউ বন্যার সতর্কবার্তা। কেউবা প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহার। আবার কেউ কৃষকের উৎপাদন খরচ কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান উপস্থাপন করছে।
এদের প্রস্তুতি দেখতে আজ রবিবার সংসদ অধিবেশনের ফাঁকে সম্মেলন কেন্দ্র যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যোগ্য, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠারও পরামর্শ দেন।
এই ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী ভাবনাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতেই আগামীকাল সোমবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’। একই সঙ্গে দেশের ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে শুরু হবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) আয়োজিত এ কর্মসূচির প্রতিপাদ্য—‘মেধা, বিজ্ঞান, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের আওতায় শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্যেই এই আয়োজন। গত ১২ জুন দেশের ৫২১টি উপজেলা ও মহানগরের শিক্ষা থানায় শুরু হয় প্রতিযোগিতা। এতে ৮ হাজার ২৯টি দলে অংশ নেয় ২৭ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী এবং ১৬ হাজার ৫৮ জন শিক্ষক। প্রতিটি দলে ছিল তিনজন শিক্ষার্থী ও দুজন শিক্ষক।
উপজেলা পর্যায় থেকে নির্বাচিত ৫৪৬টি দল ১৪ জুন জেলা পর্যায়ে তাদের প্রকল্প প্রদর্শন করে। সেখান থেকে বাছাই করা সেরা ১০০টি দল আজ জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে নিজেদের উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করবে। প্রতিযোগিতা শেষে সেরা ১০টি দলকে ট্রফি দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের জন্য ‘সু-শিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক পুরস্কার’ হিসেবে ৩০ হাজার টাকা ও সনদ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ‘উদ্ভাবনী মেধাবী শিক্ষার্থী পুরস্কার’ হিসেবে ২০ হাজার টাকা ও সনদ প্রদান করা হবে।
একই দিনে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস)’ প্রকল্পের আওতায় দেশের ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হবে। ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গনে সবুজায়ন জোরদার করাই এর লক্ষ্য।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জলবায়ু সচেতনতা কার্যক্রমের জন্য ৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। প্রথম ধাপে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একটি ফলদ, একটি বনজ ও একটি ঔষধি গাছ রোপণ করা হবে। আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মোট ৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ের এই আয়োজনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল দুপুরে তিনি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানটি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।







