পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
জলবায়ু পরিবর্তন বৈশ্বিক সমস্যা, জনসচেতনতা বাড়াতে হবে

বক্তব্য রাখছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন কোনো একটি দেশের সমস্যা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের বলরুমে বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ (BCDP) নলেজ কনফারেন্স ২০২৬-এর ‘পানি সম্পদ: জলবায়ু ঝুঁকি ও অভিযোজনমূলক ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক অধিবেশনে তিনি একথা বলেন।
সম্মেলনটি ৭-৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এতে জলবায়ু সহনশীলতা, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, অভিযোজন ও জলবায়ু অর্থায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'জলবায়ু পরিবর্তন শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, এটি সমগ্র বিশ্বের সমস্যা। তাই এ ধরনের সেমিনার ও আলোচনা শুধু সম্মেলনকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না; এর বিষয়গুলো দেশের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।'
তিনি আরও যোগ করেন, দূষণমুক্ত পরিবেশ, পরিবেশ দূষণ, পানিসম্পদ, জলবায়ু পরিবর্তন— এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে দেশের কতজন সাধারণ মানুষ পর্যাপ্তভাবে জানেন, সেটি আমাদের ভাবতে হবে। এমনকি প্রতিদিন সকালে আমরা কতজন নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করে দিন শুরু করছি— এ প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই পানি, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। দেশের মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই পাঠ্যক্রমে জলবায়ুর পরিবর্তনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বললেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ করেছেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় প্রকৃতিনির্ভর সমাধান বা প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রচলিত জিওব্যাগ ও ব্লকের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে বিন্না ঘাস ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় পরিবেশ ও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব ব্যবস্থা নদীভাঙন ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে, বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলছিলেন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় নদী ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন ও পুনঃখননের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা, জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী, বিশেষজ্ঞ, গবেষক, বেসরকারি খাত এবং সর্বস্তরের জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শুধু পরিকল্পনা গ্রহণ করলেই হবে না, সেই পরিকল্পনাকে মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, আমাদের লক্ষ্য হবে— সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ। একটি নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব, জলবায়ু সহনশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের প্রত্যাশা।




