Agamir Somoy E-Paper
শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
উপকূলে অল্পনার আশার বীজ
শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় জাতীয়

৭২৭ দিন ধরে নিখোঁজ কিংবদন্তি গোলকিপার

সুদীপ্ত আনন্দ
সুদীপ্ত আনন্দ
agamir somoy
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৮
৭২৭ দিন ধরে নিখোঁজ কিংবদন্তি গোলকিপার

মোহাম্মদ মহসিন

‘পীর-ফকির-হুজুরের কাছে পর্যন্ত গিয়েছি। চার-পাঁচজন হুজুরের কাছে গিয়ে টাকা-পয়সাও খরচ করেছি। দাদাকে না পেয়ে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম একেবারে’— কথাটা বলেই চুপ করে গেলেন রুমা ফেরদৌসী; ফোনের ওপাশে দেশের কিংবদন্তি গোলকিপার মোহাম্মদ মহসিনের আপন ছোট বোনের কণ্ঠটা ভারী শোনাল। ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট আনুমানিক দুপুর ১২টায় মালিবাগ-মৌচাকের বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি মহসিন। এরপর থেকেই শুরু তার বৃদ্ধ মা আর ভাই-বোনদের রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা। দিনের হিসাবে ৭২৭ দিন, বছরের হিসাবে দুই বছর ছুঁইছুঁই। থানায় অভিযোগ করে, সরকারের শীর্ষ মহলে যোগাযোগ করেও লাভ হয়নি। শুরুর দিকে বিভিন্ন পর্যায় থেকে খোঁজাখুঁজি হলেও এখন অনেকেই হাল ছেড়ে দিয়েছে।

তবে পরিবারের সদস্যরা এখনো মহসিনকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায়। তাদের প্রতিটি সূর্য আশার আলো দেখিয়ে উদিত হয়, সন্ধ্যায় ডুবে যায় আপনজনকে ফিরে না পাওয়ার হতাশায়। রাতের পর রাত নির্ঘুম কেটে যায় উদ্বিগ্ন ভাই-বোনের। আর শয্যাশায়ী মা এখনো প্রহর গুনছেন প্রিয় সন্তানের ফিরে আসার।

রুমা ফেরদৌসীর কথায়— ‘আমার মায়ের বয়স প্রায় ৯২। প্রায়ই মাকে নিজের বাসায় (বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়) এনে রাখতে চাই। তিনি কখনোই আসতে চান না। বলেন, আমি কোত্থাও যাব না। আমার মহসিন যদি ফিরে আসে...।’

হারিয়ে যাওয়ার আগে মা, ভাই ও মেজো বোনের সঙ্গে মৌচাকের বাসায় থাকতেন মহসিন। ২০১৪ সালে কানাডা থেকে ফিরে এসেছিলেন সাভারে একটি দখল করা জমি উদ্ধারের উদ্দেশ্যে। এ নিয়ে অনেক দৌড়ঝাঁপ করেও জমির দখল পাননি। ২০২২ সালে মহসিনের মধ্যে অস্বাভাবিকতা দেখতে পেয়ে একসময়ের সতীর্থ আব্দুল গাফফার উদ্যোগ নেন চিকিৎসার। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকরা তখন জানিয়েছিলেন মহসিনের নিউরো সমস্যা রয়েছে। মস্তিষ্কের অনেকগুলো শিরা শুকিয়ে গিয়েছিল খেলোয়াড়ি জীবনে মাথা দিয়ে বল ফেরানোর কারণে।

তখন থেকেই চলছিল মহসিনের চিকিৎসা। তবে ধীরে ধীরে স্মরণশক্তি হারাতে শুরু করেছিলেন। গাফফারের কথায়, ‘তৎকালীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি পাপন সাহেবের সহায়তায় মহসিনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলাম। সে সময় পুলিশও নানাভাবে সহায়তা করেছে চিকিৎসায়। পরে যখন বাসা থেকে বের হয়ে যায়, অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি। তবে তার খোঁজ আর পেলাম না। মহসিনের মতো কিংবদন্তি গোলকিপার এভাবে হারিয়ে যাবে, ভাবতেই পারিনি।’

মহসিনের দীর্ঘদিনের সতীর্থ রুম্মন বিন ওয়ালি সাব্বির। এভাবে মহসিনের হারিয়ে যাওয়া মেনে নেওয়া তার জন্যও ভীষণ কষ্টের— ‘দেশের যে উত্তাল সময়ে মহসিন ভাই হারিয়ে গেলেন, আমার সন্দেহ হয় তিনি কোনো গণ্ডগোলের মাঝে পড়ে গিয়েছিলেন কি না। জানি না, তিনি বেঁচে আছেন, কী নেই। যদি বেঁচে থাকেন, আল্লাহপাক যাতে তাকে সহিহ-সালামতে রাখেন এবং পরিবার, বিশেষ করে তার বৃদ্ধ মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন।’

অনেক চেষ্টা করেও মহসিনের খোঁজ না পেয়ে একসময় পীর-হুজুরদের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছেন বোন রুমা ফেরদৌসী, ‘দাদাকে কোথায় খুঁজিনি বলেন! ঢাকার বাইরেও অনেক জেলায় খুঁজেছি। পোস্টারিং করেছি। থানায় ডায়েরি করেছি। মাইকিং করেছি। রাত-বিরাতে কমলাপুর স্টেশনসহ নানা জায়গায় খুঁজেছি। ছন্নছাড়া, গৃহহীনদের বিনামূল্যে যেখানে খাবার দেওয়া হয়, সেসব জায়গায় গিয়েও বসে থেকেছি। কোথাও পাইনি দাদাকে। তাই বাধ্য হয়ে কয়েকজন হুজুরের কাছেও গিয়েছিলাম। তারাও কোনো খোঁজ দিতে পারেননি।’

মহসিনকে খুঁজে পেতে সরকার, প্রশাসনের সেভাবে সহায়তা না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়ছেন তার ভাই-বোনরা— ‘দাদাকে না পেয়ে প্রতিটি মুহূর্ত আমরা হতাশায় ভেঙে পড়ছি। আবার আশায় বুক বেঁধে অপেক্ষায় থাকি। যদি কখনো আল্লাহ ওনাকে ফিরিয়ে দেন। তবে এটা ঠিক, ওনার মতো একজন তারকা ফুটবলার হারিয়ে যাওয়ার পরও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন কিংবা বর্তমান সরকারের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি কেউ। দাদা দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব তো এ দেশের মানুষেরও।’

রমনা থানার ওসি মো. ইয়াসিন মিয়া আগামীর সময়কে বললেন, ‘আমি সম্প্রতি থানায় যোগ দিয়েছি। ফুটবলার মহসিন নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরিটি (জিডি) ২০২৪ সালের। এই জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে বদলি হয়েছেন। বিষয়টি সম্পর্কে ওই তদন্ত কর্মকর্তা নোট দিয়ে তা ক্লোজ করেছেন। তিনি লিখেছেন, অনেক চেষ্টা করেছেন। তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি।’

তাহলে কি ফুটবলার মহসিনের খোঁজ পাওয়া যাবে না? কিংবা জিডির কার্যক্রম কি বন্ধ হয়ে গেল— এমন প্রশ্নের জবাবে ইয়াসিন মিয়া কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এক সপ্তাহ আগে রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) জাহিদুল ইসলামও সময় চেয়েছিলেন জিডির তদন্তের সর্বশেষ জানানোর জন্য। ফের যোগাযোগ করা হলে তিনি ওসিকে ফোন করার পরামর্শ দেন।

১৯৬৫ সালের ১ আগস্ট ঢাকার মানিকগঞ্জে জন্ম নেওয়া মহসিনের দেশের ফুটবলে আবির্ভাব ১৯৭৮ সালে দ্বিতীয় বিভাগের দল রেলওয়ে ব্লুজের হয়ে। তার খেলায় মুগ্ধ হয়ে পরের বছর তাকে আবাহনীতে নিয়ে আসেন কিংবদন্তি ফুটবলার আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু। ১৯৮২ সালে যোগ দেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে। টানা পাঁচ বছর মোহামেডানের পোস্ট আগলে রেখেছেন তিনি। ১৯৮৫ সালে মোহামেডানের নেতৃত্বও দেন। ১৯৮৭ সাল থেকে আবারও পুরনো ঠিকানা আবাহনীতে ফেরেন মহসিন। টানা সাত বছর আকাশী-হলুদ জার্সিতে খেলেছেন। ১৯৯১ সালে তার নেতৃত্বে আবাহনী লিগ চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল। একমাত্র ফুটবলার হিসেবে তিনে দেশসেরা দুই ক্লাবের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

বাংলাদেশের জার্সিতেও দীর্ঘ সময় সুনামের সঙ্গে খেলেছেন মহসিন। ১৯৮২ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত ১১ বছর দেশের হয়ে খেলেন। খেলা ছাড়ার পর ১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র হয়ে কানাডায় স্থায়ী নিবাস গেড়েছিলেন। তবে ২০১৪ সালে ফেরাটাই হয়তো মহসিনের জীবনটা ওলটপালট করে দেয়।

দেশের সর্বকালের সেরা গোলকিপার কে? সেই তর্কে সবসময় আসে তিনজনের নাম— শহিদুর রহমান সান্টু, মহসিন ও আমিনুল হক। সান্টু প্রবাসে আছেন। মহসিনের খোঁজ নেই। আর আমিনুল এখন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। শ্রেষ্ঠত্বের বিতর্ক একপাশে রেখে মহসিনের মতো কিংবদন্তিকে খুঁজে বের করে আনার দায়িত্বটা তো তারও ।

গোলকিপারমোহাম্মদ মহসিননিখোঁজকিংবদন্তি
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    advertiseadvertise