গবেষণা জরিপের তথ্য
সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ৪০তম
- এক বছরের ব্যবধানে সাত ধাপ উন্নতি
- আঞ্চলিক অর্থনীতিতে অবদান বাড়াচ্ছে গুরুত্ব
- বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ভূমিকায় ঊর্ধ্বমুখী র্যাংক
- জলবায়ু ঝুঁকি, সুশাসনের ঘাটতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। ছবি- বাংলাদেশ আর্মি
বিশ্বে সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশের তালিকায় এগিয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ৪০তম। ২০২৫ সালে ছিল ৪৭। এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে উন্নতি হয়েছে সাত ধাপ। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার হোয়ার্টন স্কুল, বৈশ্বিক বিপণন সংস্থা এবং ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের যৌথ গবেষণা জরিপে উঠে এসেছে এসব তথ্য।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ৩৩টি দেশের ১৫ হাজার ১৩১ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর পরিচালিত সমীক্ষার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে ‘মোস্ট পাওয়ারফুল কান্ট্রিজ-২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদন। এতে মূল্যায়ন করা হয়েছে দেশগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা, রাজনৈতিক প্রভাব, সামরিক শক্তি, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভূমিকা, নেতৃত্ব এবং বৈশ্বিক প্রভাবের মতো বিভিন্ন সূচক। এসব মানদণ্ডের সম্মিলিত বিচারে ৮৫টি দেশের এ তালিকায় বাংলাদেশের স্কোর ৮ দশমিক ৯।
তালিকায় ১০০ স্কোর নিয়ে শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের ক্ষমতাধর শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে দ্বিতীয় চীন (স্কোর ৯৩ দশমিক ৬), তৃতীয় রাশিয়া (৯১ দশমিক ৪), চতুর্থ যুক্তরাজ্য (৮৪ দশমিক ৩), পঞ্চম জার্মানি (৭৪ দশমিক ১), ষষ্ঠ দক্ষিণ কোরিয়া (৬২ দশমিক ৭), সপ্তম সৌদি আরব (৬১), অষ্টম ফ্রান্স (৫৯ দশমিক ৫), নবম জাপান (৫৯) এবং দশম সংযুক্ত আরব আমিরাত (৫৮ দশমিক ৬)।
গবেষণা অনুযায়ী, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও রাজনীতিতে একটি দেশের প্রভাব, সামরিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক জোট ও কূটনৈতিক ভূমিকা এবং অর্থনৈতিক শক্তি— দেশটির সামগ্রিক ক্ষমতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ। প্রায় ১৭ কোটি ৩০ লাখ মানুষের দেশটি জনসংখ্যা ও ভোক্তা বাজারের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। সীমিত সম্পদ ও জলবায়ু ঝুঁকি সত্ত্বেও দারিদ্র্য হ্রাস ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে বাংলাদেশ। বঙ্গোপসাগরের নৌবাণিজ্য পথের কাছের অবস্থান এবং দক্ষিণ এশীয় বাজারে প্রবেশদ্বার হিসেবে এর ভূমিকা বাড়িয়েছে কৌশলগত গুরুত্ব। অর্থনীতি মূলত তৈরি পোশাকশিল্পনির্ভর, যা রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস। কৃষি এখনো গুরুত্বপূর্ণ হলেও জিডিপিতে এর অংশ কমছে।
এতে বলা হয়েছে, বিপুল জনসংখ্যা, আঞ্চলিক অর্থনীতিতে অবদান এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ভূমিকার কারণে আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বাড়ছে বাংলাদেশের। তবে জলবায়ু ঝুঁকি, দুর্যোগ, সুশাসনের ঘাটতি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, জলবায়ু সহনশীলতা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি জরুরি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রাশেদ আলম ভূঁইয়া আগামীর সময়কে বলেছেন, বাংলাদেশের ৪০তম অবস্থান দেশটির ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক গুরুত্ব, বৃহৎ জনসংখ্যা, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রতিফলন। বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্প, বৈদেশিক বাণিজ্য, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের ভূমিকা বাড়াচ্ছে বৈশ্বিক প্রভাব।
তালিকায় ১২তম স্থানে প্রতিবেশী দেশ ভারত। তবে মোট ৮৫টি দেশ নিয়ে করা এ তালিকায় নেই পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া, ভুটান ও মালদ্বীপের নাম। এ ছাড়া শীর্ষ ৪০টি দেশের মধ্যে রয়েছে ইসরায়েল ১১তম, কানাডা ১৩তম, তুরস্ক ১৪তম এবং ইরান ১৬তম।
সামগ্রিক র্যাংকিংয়ে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ৮৯টি দেশের মধ্যে ৭১তম অবস্থানে থাকলেও আগের বছর মোট ৮৭টি দেশের মধ্যে অবস্থান ছিল ৬৯তম। অর্থাৎ ২০২৩ সালের তুলনায় দুই ধাপ পিছিয়েছিল বাংলাদেশ।




