বন্দর পরিচালনায় সমন্বিত কৌশল তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার : শেখ রবিউল

নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
দেশের সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর ও স্থলবন্দর ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় বাড়াতে জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার। আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি, বন্দর পরিচালনায় দক্ষতা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সুরক্ষাকে এ কৌশলে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে কোনো একক মন্ত্রণালয় বা সংস্থার স্বার্থের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
আজ রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নৌপরিবহনমন্ত্রী বললেন, বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ বন্দর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর ও স্থলবন্দর পৃথক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা জরুরি। বন্দর ব্যবস্থাপনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কাস্টমস এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাই জাতীয় বন্দর কৌশল তৈরিতে সবার মতামত নেওয়া প্রয়োজন।
মন্ত্রী বলেছেন, কোনো নির্দিষ্ট সংস্থা বা মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্ব ও দায়িত্বকে খাটো করে নয়, বরং বিদ্যমান দায়িত্ব ও কাঠামোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়িয়ে এ কৌশল তৈরি করতে হবে। দেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রয়োজন ও স্বার্থ বিবেচনায় নিতে হবে।
আন্তর্জাতিক বিনিয়োগে ভারসাম্যের প্রশ্ন
দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী। ডিপি ওয়ার্ল্ড, ডেনমার্কের এপি মোলার এবং সিঙ্গাপুরের পিএসএ-সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বললেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বন্দরের দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব। তবে এ ধরনের উদ্যোগের সুফল পেতে সমন্বিত নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, বন্দর পরিচালনা, বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের স্বার্থকে এককভাবে প্রাধান্য দিয়ে কৌশলপত্র তৈরি করা হলে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
বন্দর উন্নয়নকে শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, টার্মিনাল পরিচালনা, কনটেইনার হ্যান্ডলিং, পণ্য খালাস, পরিবহন সংযোগ ও কাস্টমস কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করে বন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
সহযোগিতা করছে জাইকা
জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সহযোগিতা করছেন বলে জানান মন্ত্রী। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা ও মতামতের ভিত্তিতে কার্যকর কৌশলপত্র তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সেমিনারে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, দেশের বন্দরগুলোকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান বের করতে হবে। শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
সেমিনারে নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া, বাংলাদেশে জাইকার কান্ট্রি ডিরেক্টর তাকাহাশি, বিভিন্ন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।



