দুর্নীতিতে যদি আমিও জড়িত থাকি ছাড় দেওয়া উচিত নয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক নেতাদের নামে নামফলক বসানোর সংস্কৃতির কঠোর সমালোচনা করলেন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আহ্বান জানালেন এই সংস্কৃতি বন্ধেরও। এ ছাড়া, এ ধরনের চর্চাকে অপরাজনীতি আখ্যা দিয়ে বললেন, বিষয়টি দেশের জন্য ডেকে আনে চরম ক্ষতি।
জামায়াত আমিরের ভাষ্য, কারও যদি নিজের নামের মোহ থাকে, তবে তিনি নিজের টাকা ও জমিতে জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে নাম দিতে পারেন। গতকাল বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে এসব কথা বললেন বিরোধীদলীয় নেতা।
ভাষণে জাতীয় সংসদের গুরুত্ব তুলে ধরে শফিকুর রহমান বললেন, “এই সংসদ অত্যন্ত ব্যতিক্রমী এবং আমরা এটিকে ‘মজলুমের মিলনমেলা’ বলে বিশ্বাস করি। এই সংসদের কার্যক্রম যত বেশি সুন্দর ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলবে, দেশের মানুষের মন থেকে হতাশা তত বেশি দূর হবে।”
দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষক যদি এই সংসদ না হয়; তাহলে বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতি বিদায় নেবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বললেন, ‘দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষক যদি এই সংসদ না হয়, আমি পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী— বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতি কানে ধরে বিদায় নেবে; কিন্তু আমাদের যদি আশ্রয়-প্রশ্রয় থাকে, পছন্দ-অপছন্দ এগুলো যদি ক্রিয়াশীল থাকে, দুর্নীতি বাংলাদেশ থেকে বিদায় নেওয়ার কোনো কারণ নেই। কেউ দায় দেন আমলাদের, কেউ দায় দেন ব্যবসায়ীদের, কেউ দায় দেন রাজনীতিবিদদের। আমি বলি দায় আমাদের সবার।’
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরার কথা বলেছেন। আপাতত দুর্নীতির হাত চেপে ধরেন, হাতের মধ্যে কড়া লাগায়ে দেন। এ ক্ষেত্রে যদি এই দুর্নীতির সঙ্গে আমিও জড়িত থাকি, ছাড় দেওয়া উচিত নয়।’
উন্নয়ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে সুষম বণ্টনের দাবিও জানালেন বিরোধীদলীয় নেতা। তার অভিযোগ, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও আর্থিক পদক্ষেপে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি ইনসাফ করা হয়নি।
এ ছাড়া, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বললেন, প্রাথমিক স্তরে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এটি সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্যই প্রযোজ্য।




