সাগরে তেল-গ্যাসে নতুন আশা দরপত্র আহ্বান আজ

সংগৃহীত ছবি
বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস ও অন্যান্য খনিজ সম্পদের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এরইমধ্যে প্রতিবেশি দেশ ভারত ও মিয়ানমার তাদের অংশে তেল-গ্যাস উত্তোলন শুরু করলেও বাংলাদেশ বাংলাদেশ তার সমুদ্র সম্পদ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে পুরোপুরি।
সরকারের কিছুটা অবহেলা আর নানান কারণে বিদেশী প্রতিষ্ঠানের অনাগ্রহের কারণেই এমন পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। তবে নতুন করে আবার তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান করতে যাচ্ছে সরকার।
আজ রবিবার বহুল কাঙ্খিত এই দরপত্র আহবান করা হবে। এবার উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তি বা পিএসসিতে আগের চেয়ে বেশ কিছু শর্ত শিথিল করা হয়েছে। তাতে বিদেশী প্রতিষ্টানগুলো আগ্রহী হবে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা।
জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি) প্রকৌশলী মো. শোয়েব আগামীর সময়কে বলছিলেন, ‘দেশের স্বার্থ ঠিক রেখে যতটা সম্ভব আকর্ষণীয় শর্ত রাখা হয়েছে এবারের দরপত্রে। এতে বিদেশীরা অনুসন্ধানে আগ্রহী হবেন বলে আমরা আশাবাদী।’
‘আগের চেয়ে গ্যাসের ট্যারিফ আকর্ষণীয় করা হয়েছে। এছাড়া আগে শর্ত ছিল- একটা সময়ের মধ্যে গ্যাস না পেলে বা ড্রিলিং শেষ করতে না পারলে ওই প্রতিষ্ঠানকে ৫০ শতাংশ এলাকা ছেড়ে দিতে হতো। এখন তা ২০ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থ্যাৎ ৮০ শতাংশ জায়গা লম্বা সময় ধরে অনুসন্ধানের সুযোগ পাবে তারা। এমন আরও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে’— যোগ করেন তিনি।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বলছে, অতীতের নানা ভুলত্রুটি ও বিদেশী কোম্পানিগুলোর অনীহার কারণ বিবেচনা করে এবারের দরপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। মূলত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং একটি প্রতিযোগিতামূলক বিডিং প্রক্রিয়া গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিদেশী কোম্পানিগুলোর জন্য একগুচ্ছ আকর্ষণীয় সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এবারের নীতিমালার মূল লক্ষ্যই হলো-সরকার ও বিনিয়োগকারী উভয় পক্ষের স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রেখে যোগ্য, দক্ষ ও অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের গতি বাড়াতে এবং বিদেশী কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করতে ‘বাংলাদেশ অফশোর মডেল প্রডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) ২০২৬’-এ বেশ কিছু যুগান্তকারী সংশোধন আনা হয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ইতোমধ্যে এই নতুন মডেলের খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, নির্বাচিত কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ‘এমপিএসসি ২০২৬’ কাঠামোর আওতায় চুক্তি সই করা হবে।
দরপত্র আহবানের পাশাপাশি ব্যাপক প্রচারের জন্য আন্তর্জাতিক 'রোড শো' এবং বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বিদেশী দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে চিঠি পাঠিয়ে প্রচারণা চালানোর জোরালো উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
যেসব আকর্ষনীয় শর্ত রয়েছে
সংশোধিত পিএসসি’র সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, চুক্তির শুরুতে কোনো ধরনের সিগনেচার বোনাস কিংবা রয়্যালটি পরিশোধ করতে হবে না। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান তার অর্জিত মুনাফা সম্পূর্ণভাবে নিজ দেশে ফেরত নিতে পারবে।
সাগরে অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও উৎপাদন— এই তিনটি প্রধান ধাপে আমদানিকৃত সমস্ত যন্ত্রপাতি ও মেশিনারির ওপর শতভাগ শুল্ক অব্যাহতি সুবিধাও রয়েছে। এমনকি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ওপর ধার্যকৃত করপোরেট আয়করও সম্পূর্ণ পরিশোধ করবে পেট্রোবাংলা। পাশাপশি, অগভীর ও গভীর সমুদ্র উভয় ব্লকের জন্যই শতভাগ ব্যয় পুনরুদ্ধারের সুবিধা রাখা হয়েছে, যার আওতায় কোম্পানিগুলো বছরে সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় তুলে নিতে পারবে।
অফশোর প্রকল্পগুলোকে আন্তর্জাতিকভাবে ও বাণিজ্যিক দিক থেকে লাভজনক করতে গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে যেখানে গ্যাসের দাম উচ্চ সালফার ফুয়েল অয়েলের মূল্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হতো, এখন থেকে তা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচলিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দামের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।
নতুন ব্যবস্থার আওতায়, গভীর সমুদ্র ব্লকে উত্তোলিত গ্যাসের দাম নির্ধারিত হবে বিগত তিন মাসের গড় ব্রেন্ট মূল্যের ১১ শতাংশ হারে। অন্যদিকে, অগভীর সমুদ্র ব্লকের ক্ষেত্রে এই হার ধরা হয়েছে ১০.৫ শতাংশ, যা ২০২৩ সালের মূল্য কাঠামোয় ছিল মাত্র ১০ শতাংশ। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা থেকে সুরক্ষার জন্য গত পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গড় ব্রেন্ট মূল্যের ভিত্তিতে একটি ফ্লোর মূল্য (সর্বনিম্ন) এবং সিলিং মূল্য (সর্বোচ্চ) নির্ধারণ করা হবে। এই কাঠামো অনুযায়ী প্রতি ব্যারেলের সর্বনিম্ন মূল্য ৭০ ডলার এবং সর্বোচ্চ ১০০ ডলার ধরে গ্যাসের দাম হিসাব করা হবে এবং প্রতি ৫ বছর পর পর এই মূল্য কাঠামো পুনর্বিবেচনা বা সমন্বয় করা হবে।
এর বাইরেও আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর ঝুঁকি কমাতে ও লাভ বাড়াতে চুক্তিতে স্বার্থ হস্তান্তর ও শেয়ার ট্রান্সফারের নমনীয় সুযোগ রাখা হয়েছে। উৎপাদিত গ্যাসের ক্ষেত্রে পেট্রোবাংলার ‘রাইট অব ফার্স্ট রিফিউজাল’ বা প্রথম ক্রয়ের অধিকার বজায় থাকবে; তবে পেট্রোবাংলা গ্যাস না কিনলে ঠিকাদার কোম্পানি তাদের অংশ দেশীয় বাজারে যেকোনো তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করতে পারবে। এমনকি একই শর্ত মেনে উদ্বৃত্ত গ্যাস বিদেশে রপ্তানির সুযোগও রাখা হয়েছে।
বাধ্যতামূলক কাজের অংশ হিসেবে এবার শুধুমাত্র দ্বিমাত্রিক সিসমিক জরিপকে নির্দিষ্ট রাখা হয়েছে, যদিও দরদাতাদের অতিরিক্ত কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। তবে কোনো দরদাতা কোম্পানি যদি পেট্রোবাংলার কাছে থাকা বিদ্যমান দ্বিমাত্রিক মাল্টিক্লায়েন্ট সিসমিক ডাটা কিনে নেয়, তবে তাদের জন্য বাধ্যতামূলক কাজের পরিমাণ আনুপাতিক হারে কমিয়ে দেওয়া হবে। প্রথম অনুসন্ধান কূপ খননের পর সেটি যদি শুকনো বা বাণিজ্যিকভাবে অকার্যকর প্রমাণিত হয়, তবে ঠিকাদার কোম্পানিকে উৎসাহিত করতে দ্বিতীয় বা পরবর্তী কূপগুলোর ক্ষেত্রে বেশি মুনাফা ভাগের আকর্ষণীয় প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর ন্যুনতম অনুসন্ধান কর্মসূচি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা হিসেবে নির্ধারিত ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দিতে হবে। এছাড়া, দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে অগভীর সমুদ্র ব্লকের ক্ষেত্রে তাদের ১০ শতাংশ ‘ক্যারীড ইন্টারেস্ট’ বা বিনা পুঁজিতে অংশীদারিত্ব দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। অবশ্য সরকার বিশেষ প্রয়োজনে যে কোনো সফল দরদাতাকে সীমিত সংখ্যক ব্লক বরাদ্দ দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা নিজের কাছে সংরক্ষণ করবে।
অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা
সাগরে মোট ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে এই দরপত্র আহবান করা হবে। এরমধ্যে ‘এসএস-০১’ থেকে ‘এসএস-১১’ পর্যন্ত মোট ১১টি ব্লক অগভীর সমুদ্রে অবস্থিত। অন্যদিকে, ‘ডিএস-০৮’ থেকে ‘ডিএস-২২’ পর্যন্ত বাকি ১৫টি ব্লক রয়েছে গভীর সমুদ্রে।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, দরপত্রে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এককভাবে কিংবা যৌথ উদ্যোগ গঠনের মাধ্যমে এক বা একাধিক ব্লকের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবে। এবারের টেন্ডারে অংশগ্রহণকারীদের আর্থিক সাশ্রয়ের কথা বিবেচনা করে একটিমাত্র টেন্ডার শিডিউল বা দরপত্র দলিল ক্রয় করেই একাধিক ব্লকে অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে সে ক্ষেত্রে প্রতিটি আলাদা গভীর ও অগভীর সমুদ্র ব্লকের জন্য পৃথক পৃথক প্রস্তাব বা আবেদন জমা দিতে হবে। তবে ভৌগোলিকভাবে পরস্পর সংলগ্ন দুটি গভীর সমুদ্র ব্লকের ক্ষেত্রে একটি একক চুক্তির আওতায় যৌথ আবেদন করার বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে।
অংশগ্রহণের যোগ্যতা
চুক্তির শর্ত কিছুটা শিথিল করা হলেও দরপত্রে অংশ নেওয়ার জন্য কোম্পানিগুলোর কারিগরি ও আর্থিক যোগ্যতার বিষয়ে কিছু ন্যূনতম শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, আগ্রহী আবেদনকারী কোম্পানিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অন্তত একটি অফশোর ব্লকের সফল অপারেটর বা পরিচালনাকারী হতে হবে। একই সঙ্গে দৈনিক ন্যূনতম ১০ হাজার ব্যারেল তেল অথবা ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস উৎপাদনের বাস্তব ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
ভারত-মিয়ানমার পারলেও পারেনি বাংলাদেশ
২০১২ সালে ভারতের সঙ্গে এবং ২০১৪ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধের ঐতিহাসিক নিষ্পত্তি হয়। এরপরই প্রতিবেশি দুই দেশ তাদের অংশে অনুসন্ধান চালিয়ে তেল-গ্যাস উত্তোলন শুরু করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনও অনুসন্ধানই শুরু করতে পারেনি।
সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ২০১৯ সালে একটি নতুন পিএসসি করা হলেও সে সময় কোনো দরপত্র ডাকা হয়নি। পরবর্তীতে দীর্ঘ তিন বছর সময় নিয়ে চূড়ান্ত করা হয় ‘পিএসসি ২০২৩’। পরের বছর ২০২৪ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান করা হয়েছিল। সে সময় বিশ্বের ৫৫টি নামী কোম্পানিকে দরপত্রে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং মে মাসে পেট্রোবাংলা আয়োজিত একটি বিশেষ সেমিনারে ১৫টিরও বেশি আন্তর্জাতিক কোম্পানি অংশ নেয়।
সেমিনারে বিখ্যাত ভূকম্পন জরিপ সংস্থা টিজিএস ও শ্ল্যামবার্জার কর্তৃক পরিচালিত বঙ্গোপসাগরের ১২ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকার দ্বিমাত্রিক জরিপের আশাব্যঞ্জক ফলাফলও উপস্থাপন করা হয়েছিল।
দরপত্রের সময়সীমা প্রথমে ৬ মাস এবং পরবর্তীতে আরও ৩ মাস বাড়িয়ে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পর্যন্ত নেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটি কোম্পানিও চূড়ান্ত দরপত্র জমা দেয়নি। যদিও বেশ কয়েকটি কোম্পানি আগ্রহ দেখিয়ে সাগরের তথ্য-উপাত্ত বা ডাটা কিনেছিল।
আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর এই চরম অনীহার কারণ অনুসন্ধান করতে পরবর্তীতে পেট্রোবাংলা একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই কমিটির প্রতিবেদনে উঠে আসে, গ্যাসের কম দাম, শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে মুনাফার অতিরিক্ত অংশ প্রদান, পাইপলাইন নির্মাণে উচ্চ ব্যয় এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে বিদেশী কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে ঝুঁকি দেখছিল।
কর্মকর্তারা জানান, মূলত সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবং ক্রমবর্ধমান এলএনজি আমদানি ব্যয় হ্রাস করে দেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই পূর্ববর্তী মডেলের আপত্তিগুলো সংশোধন করে এই 'পিএসসি ২০২৬' চূড়ান্ত করা হয়েছে।
নতুন সংশোধনীতে শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে মুনাফার বাধ্যতামূলক অংশ ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১.৫ শতাংশ করা হয়েছে এবং পাইপলাইন ট্যারিফ দরদাতাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এর আগে ২০১০ সালে গভীর সমুদ্রের দুটি ব্লকে কাজ শুরু করেছিল মার্কিন পরাশক্তি কনোকোফিলিপস। তারা দ্বিমাত্রিক জরিপ সম্পন্ন করলেও পরবর্তীতে গ্যাসের দাম বাড়ানোর দাবি তৎকালীন সরকার পূরণ না করায় কাজ ছেড়ে চলে যায়। একইভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের পর মাঝপথে কাজ ফেলে চলে যায় অস্ট্রেলিয়ার স্যান্টোস এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পস্কো দাইয়ু। এরপর একমাত্র বিদেশী কোম্পানি হিসেবে অগভীর সমুদ্রের দুটি ব্লকে (এসএস-৪ ও এসএস-৯) ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ওএনজিসি অনুসন্ধান চালিয়ে আসছিল, তবে তারাও শেষ পর্যন্ত কাজ অসমাপ্ত রেখে ব্ল ছেড়ে চলে যায়।






