বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা বৈশ্বিক পরিসরে তুলে ধরবে ইউএনএফপিএ

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের জনমিতিক সহনশীলতা, নারীর ক্ষমতায়ন, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) নির্বাহী পরিচালক ডিয়েনে কেইতা। আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
নিউইয়র্কে ইউএনএফপিএ সদরদপ্তরে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এবং সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. মনজুর হোসেন।
বৈঠকে সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচিগুলো তুলে ধরে ড. তিতুমীর বলেছেন, সরকার নারীকে কেন্দ্র করে জীবনচক্রভিত্তিক সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, যুবদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান, সুস্থ বার্ধক্য নিশ্চিতকরণ, নির্ভরযোগ্য জনমিতিক তথ্যব্যবস্থা এবং শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করেছে। রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে ইউএনএফপিএর আরও সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ড. তিতুমীর বলেছেন, বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের জন্য জনমিতিক সুফল অর্জনের এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে তিনি জনসংখ্যার বয়স কাঠামোর পরিবর্তনের ফলে উদ্ভূত দীর্ঘায়ুজনিত সম্ভাবনাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য একটি সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে দেশের প্রতিটি মানুষ বিশেষ করে মা, শিশু এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সহজে স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা, ইউএনএফপিএর পরবর্তী কান্ট্রি প্রোগ্রামকে সরকারের পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতাকে বৈশ্বিক সেরা অনুশীলনের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরতে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানান।
ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক ডিয়েনে কেইতা বাংলাদেশের সঙ্গে জনমিতিক সহনশীলতা, প্রজনন স্বাস্থ্য, যুব উন্নয়ন, সুস্থ বার্ধক্য, জনসংখ্যা তথ্যব্যবস্থা এবং উদ্ভাবনী অর্থায়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে দৃঢ় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও জাতীয় মালিকানাবোধ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে পারে। তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের উন্নয়ন সাফল্য তুলে ধরতে ইউএনএফপিএর ধারাবাহিক ভূমিকারও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।




