ডা. মোর্শেদ উদ্দীন আকন্দ
বিশ্বে প্রতি ৩০ সেকেন্ডে একজনের পা কাটা যায়

ছবি: আগামীর সময়
বিশ্বে প্রতি ৩০ সেকেন্ডে ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় একজন মানুষের পা কেটে ফেলতে হচ্ছে। অথচ শুরুতেই পায়ের ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও যত্ন নিশ্চিত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই এ ধরনের অঙ্গহানি ঠেকানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পোডিয়াট্রি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. মোর্শেদ উদ্দীন আকন্দ।
তিনি বলেন, বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ের নিচে অতিরিক্ত চাপ, স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, ছোট ক্ষত ও সংক্রমণ ধীরে ধীরে আলসার ও গ্যাংগ্রিনে রূপ নিতে পারে। পরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পায়ের অংশবিশেষ কিংবা পুরো পা কেটে ফেলার প্রয়োজন হতে পারে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক পোডিয়াট্রি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, পায়ের স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত পরীক্ষা, সঠিক জুতা ব্যবহার এবং চিকিৎসকসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সমন্বিত চিকিৎসাব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে অকাল পা হারানোর ঘটনা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ডা. মোর্শেদ উদ্দীন আকন্দ বলেন, বাংলাদেশে পোডিয়াট্রি এখনো নতুন একটি বিষয়। অথচ মানুষের স্বাভাবিক হাঁটা ও চলাফেরার জন্য পায়ের স্বাস্থ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত পায়ে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেওয়ার পরই মানুষ এর গুরুত্ব বুঝতে পারে।
তিনি বলেন, ডায়াবেটিসের কারণে পায়ের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে রোগীর অনুভূতি কমে যেতে পারে। ফলে পায়ে ছোট ক্ষত হলেও অনেক সময় তা টের পাওয়া যায় না। সেখান থেকে সংক্রমণ, আলসার ও গ্যাংগ্রিন হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যে পায়ের অংশবিশেষ কিংবা পুরো পা কেটে ফেলতে হয়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ের স্নায়ু ও রক্তনালির জটিলতা দেখা দিলে পায়ের অনুভূতি কমে যায়। ফলে জুতার ভেতরে কাঁকর ঢুকে যাওয়া, ঘর্ষণে ক্ষত তৈরি হওয়া কিংবা দীর্ঘসময় পায়ের কোনো অংশে অতিরিক্ত চাপ পড়ার মতো বিষয়ও রোগীর নজর এড়িয়ে যেতে পারে। এ ধরনের ছোট সমস্যাই পরবর্তী সময়ে বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাক্লাইন রাসেল। তিনি বলেন, পায়ের যত্ন নেওয়ার বিষয়টি অনেক পুরোনো হলেও আধুনিক সময়ে এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে। অনেক মানুষ পায়ে সমস্যা শুরু হওয়ার পরও তা বুঝতে পারেন না। ফলে চিকিৎসা নিতে দেরি হয় এবং একসময় অঙ্গহানির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।
তিনি বলেন, পায়ের সমস্যা শুধু ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। খেলোয়াড় থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষের পায়ের নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। তাই বাংলাদেশে পোডিয়াট্রিক সেবার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার সিদ্দিক-ই রব্বানী বলেন, ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ের আলসার ও গ্যাংগ্রিনের ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করতে পায়ের চাপ পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, দেশে প্রায় দেড় কোটি ডায়াবেটিস রোগী রয়েছেন। তাদের একটি বড় অংশ পায়ের বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকিতে থাকলেও অনেকেই আলসার বা গ্যাংগ্রিন হওয়ার পর চিকিৎসকের কাছে আসেন। এতে অনেক ক্ষেত্রে পায়ের অংশবিশেষ কিংবা পুরো পা কেটে ফেলতে হয়।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক কম্পিউটারভিত্তিক যন্ত্রের মাধ্যমে পায়ের তলায় কোন জায়গায় অতিরিক্ত চাপ পড়ছে তা শনাক্ত করা সম্ভব। ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় চাপ কমাতে বিশেষভাবে তৈরি জুতা ব্যবহার করা যায়। অলাভজনক প্রতিষ্ঠান রিলেভেন্ট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সোসাইটি (আরএসটিএস) দেশে তৈরি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ ধরনের পরীক্ষা চালু করেছে।
জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান বলেন, দেশে পোডিয়াট্রি বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা প্রয়োজন। এ জন্য সার্টিফিকেট কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
তিনি বলেন, ধূমপান শুধু মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়, পরিবেশ ও জমির ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। তাই তামাক চাষ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।





