প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাতে কী কথা হলো?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। আজ সোমবার সকালে সচিবালয়ে এই সাক্ষাৎ হয়। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানালেন, তারা আশা করছেন বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি ভারত সরকার অনুধাবন করতে পেরেছে এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রের কোনো স্তম্ভকে আন্ডারমাইন করার মতো কিছু ভারত করবে না।
আর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়৷ বাংলাদেশ আশা করে, ভারত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে।
অন্যদিকে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার খুবই ভালো আলোচনা হয়েছে। তারা এখন সামনের দিকে তাকাচ্ছেন।
সচিবালয়ে এই বৈঠকের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
শেখ হাসিনার নয়া দিল্লিতে একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়া নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে তারেক রহমানের প্রথম সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হলো।
বৈঠকের বিষয়ে যা বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল বাংলাদেশ সরকার। আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাতের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ‘একটা রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভ— নির্বাহী বিভাগ, জুডিশিয়ারি ও আইনসভা। দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনার জায়গা হলো জুডিশিয়ারি। বাংলাদেশের একটি যোগ্য আদালত তাকে দণ্ড দিয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে কাস্টডিতে নেওয়া হয় এবং তার যদি কোনো বক্তব্য থাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কিছু থাকে, সেটি আদালতে বলবে। ৫ তারিখে হাসিনা যে কাজ করেছেন সেটি হলো বাংলাদেশের জুডিশিয়ারি, রাষ্ট্রের একটি স্তম্ভ— তাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। সে কাজটি ভারত সরকার তাকে করতে দিয়েছে। আমরা চাই আমাদের রাষ্ট্রের পুরো কাঠামোর প্রতি সারা বিশ্ব শ্রদ্ধাশীল হোক। আমরা আশা করব এ বিষয়টি ভারত সরকার অনুধাবন করবে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, ‘আমরা আশা করব, আমাদের রাষ্ট্রের কোনো কিছুকে তারা আন্ডারমাইন করবেন না। তাদের সঙ্গে কথা বলে আমি কিছুটা আশ্বস্ত যে, এর পুনরাবৃত্তি পাব না।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিকসে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। দাওয়াত দেওয়া হয়েছে বিমসটেকের চেয়ারম্যানকে। এ পার্থক্য বুঝতে হবে। এর আগে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী সরকার গঠনের দিন যে চিঠি দিয়েছিলেন, সেখানে তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেটা আমরা দেখব।’
আজ এ বিষয়ে (দ্বিপক্ষীয় সফর) কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে তারা কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেননি।
ভারতীয়রা বাংলাদেশ সরকারের বার্তা বুঝতে পেরেছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, ‘গতকাল উনি (ভারতীয় হাইকমিশনার) স্পষ্ট করেই বলেছেন যে উনি বুঝতে পেরেছেন। উনার সঙ্গে আমার আলোচনা হলো তো, সেখানে তিনি বলেছেন যে, আমরা কোন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলছি সেটি তিনি বুঝতে পেরেছেন।’
যা বললেন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত
সচিবালয়ে বৈঠক শেষে বের হওয়ার পথে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বৈঠকটিকে ‘জনগণের প্রতিনিধির সঙ্গে জনগণের প্রতিনিধির সাক্ষাৎ হিসেবে বর্ণনা করেন দিনেশ ত্রিবেদী।
তার ভাষ্য, ‘খুবই ভালো লাগল। আমি কূটনীতিক নই। এটা ছিল জনগণের প্রতিনিধির সঙ্গে জনপ্রতিনিধির সাক্ষাৎ। আমি খুবই আনন্দিত যে ওনার সঙ্গে আমার দেখা হলো। দেখা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মনে হয়নি যে, প্রথমবার আমি ওনার সঙ্গে দেখা করেছি। খুবই ভালো। খুবই বিনয়ী।’
ভারতীয় হাইকমিশনার বললেন, ‘আমাদের যা ইতিহাস আছে, তা তো বদলানো যাবে না। প্রতিবেশী তো বদলানো যাবে না। আমি একটা কথা সবসময় বলি যে, আমরা শুধু সীমান্ত শেয়ার করি না, স্বপ্ন শেয়ার করি। মনে হচ্ছে আগামী দিন ভালোই হবে। ইস্যুকে সর্ট আউট করতে হবে দুই দিক থেকে। আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী। খুবই ভালো লেগেছে, ওনার সঙ্গে দেখা হলো।’
কিন্তু বৈঠকে সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ে আলোচনা হলো কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি কোনো জবাব তিনি দেননি। ভারতীয় হাইকমিশনার শুধু বলেছেন, ‘এমন কোনো ইস্যু নেই যা আমরা বসে সমাধান করতে পারি না। এটা উইন উইন সিচুয়েশন। দুই দেশে গতিশীল ডেমোক্রেসি। দুই মাস হলো এসেছি। এত সম্মান পেয়েছি, প্রীতি ও ভালোবাসা পাচ্ছি— আমার ভালো লেগেছে।’







