প্রাথমিক স্কুলে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ দ্রুত পূরণের সুপারিশ
- সব শিশুর বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে স্কুল বাড়ানোর তাগিদ
- ফিডিংয়ে মান না থাকলে শাস্তির সুপারিশ

সংগৃহীত ছবি
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের সব শূন্যপদ দ্রুত পূরণ এবং দেশের সব শিশুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সংসদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।
একই সঙ্গে প্রাথমিক স্তরে নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং বিদ্যালয়ের চলমান ফিডিং কার্যক্রমে খাবারের মান ও শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিতের তাগিদ দিয়েছে কমিটি।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়।
কমিটির সভাপতি মাহমুদা হাবিবার সভাপতিত্বে বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এহছানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, লুৎফর রহমান খান আজাদ, মো. আব্দুস সালাম, মো. সাদিক রিয়াজ, মো. ইলিয়াস মোল্লা, মো. মোক্তার আলী এবং মাহফুজা হান্নান অংশ নেন।
বৈঠকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ দ্রুত পূরণের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কমিটি সদস্যরা প্রাথমিক স্তরে শিশুদের নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলকভাবে চালুর সুপারিশ করা হয়। বিদ্যালয়ের ফিডিং কার্যক্রম নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। শিশুদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের সঠিক মান এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। ফিডিং কার্যক্রমে মান নিশ্চিত করা না হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়।
বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ করা সরকারি বাজেট যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপরও জোর দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। বরাদ্দের অর্থ যেন নির্ধারিত উদ্দেশ্যে সঠিকভাবে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় বিদ্যালয়গুলো সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য কমিটির সদস্যদের প্রতি পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে বিদ্যালয়ের বাস্তব পরিস্থিতি, শিক্ষা কার্যক্রম ও শিশুদের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাওয়া যাবে বলে বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট, প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি এবং বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিটের ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্য অর্থবছরের খাতভিত্তিক বরাদ্দ ও ব্যয় পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন খাতের বাজেট ও ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। আলোচনায় কমিটির সদস্যরা দেশের সব শিশুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন বিদ্যালয় স্থাপন ও বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




