তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দিল্লি এখনো ‘পজিটিভ’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ছবি: ভারতীয় হাইকমিশনের ফেসবুক পেজ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো ইতিবাচক দিল্লি। এমনটাই জোর দিয়ে জানালেন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। আজ মঙ্গলবার সকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অপরদিকে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরসংক্রান্ত বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বললেন, যখন অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে, তখন প্রধানমন্ত্রী সফরে যেতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কোনো ধরনের তাড়াহুড়া নেই উল্লেখ করে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতে সফরের জন্য দেওয়া আমন্ত্রণ এখনো বহাল রয়েছে। এটা নিয়ে মনে হচ্ছে না এভাবে তাড়াহুড়ার দরকার আছে। যখন সময় হবে, নিশ্চয়ই হবে (সফর)। সবকিছুই খুবই পজিটিভ। কিন্তু আমাদের অবশ্যই সময় দিতে হবে। একটা সময়ের মধ্যে সবকিছু পজিটিভ হবে। এখানে নেতিবাচক কোনো কিছু হওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমি পজিটিভ, আমাদের প্রধানমন্ত্রী এমনকি বাংলাদেশের জনগণও পজিটিভ। তবে আমি আত্মবিশ্বাসী, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যে সময়টাকে সুবিধাজনক মনে করবেন তখনই তাদের মধ্যে বৈঠক হবে।’
এদিকে সাক্ষাতের বিষয়ে হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, ‘পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে আমার এটিই প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ। আমাদের মধ্যে খুবই ভালো, আন্তরিক, ফলপ্রসূ এবং কার্যকরী আলোচনা ও পর্যালোচনা হয়েছে। আমাদের অবশ্যই কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে চ্যালেঞ্জগুলো আমরা আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে কাটিয়ে উঠব। এসব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে পারার বিষয়ে আমরা আশাবাদী। এ ছাড়া যখন একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে, তখন প্রধানমন্ত্রীও সফর করতে পারেন। এখানে আলোচনা বেশ ভালোই হয়েছে এবং অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে, যা আমি আগেই বলেছি।’
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ টেনে দীনেশ ত্রিবেদী উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারত উভয়পক্ষেই কিছু রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে এসবের মাঝেও সামগ্রিক সম্পর্ক এবং সম্ভাবনা ইতিবাচক।’
ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার ঢাকা সফরসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কোনো কথা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ নিয়ে কোনো আলাপ হয়নি। এখানে সফর (প্রধানমন্ত্রীর) নিয়ে কিছু আলাপ-আলোচনা হয়েছে এবং আমরা এ বিষয়ে ইতিবাচক। আমি যেমনটা বললাম, কিছু চ্যালেঞ্জ আছে এবং সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনার মাধ্যমে এগোচ্ছি। ভবিষ্যতের সুযোগগুলো নিয়ে আমাদের একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর সফর কবে নাগাদ হতে পারে এ প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সময় তো পরে নির্ধারণ হবে। যখন আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সফর করার মতো একটি পারস্পরিক অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে, তখন আমরা সময় ও তারিখের ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারব।’
সফরটি নভেম্বর মাসের কোনো একসময় হতে পারে— এমন গুঞ্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আলোচনা চলছে। তবে গুঞ্জন নিয়ে তো আর আমি আলাপ করতে পারি না। কত গুঞ্জনই তো থাকে। গুঞ্জন নিয়ে আমি কথা বলি না, আমি বাস্তবতা (রিয়ালিটি) নিয়ে কথা বলি। বাস্তবতা হলো আজকে আমাদের খুব ভালো একটি বৈঠক হয়েছে। আমি অত্যন্ত আশাবাদী, খুব নিকট-ভবিষ্যতে আমরা ইতিবাচক ফলাফল পাব। আর চ্যালেঞ্জ তো আছেই, যা আপনাদের আগেই বললাম। এসব চ্যালেঞ্জ আমরা কথাবার্তার মাধ্যমেই সমাধান করব। পরিবেশ অনুকূল হলে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতেই এই সফরটি হবে।’



