আরও কমছে হজযাত্রার ভাড়া, ৪ বছরে ৫৫ হাজার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রতি বছর হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া বাড়ে। এটাই ছিল ২০২৩ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক বিষয়। হজ প্যাকেজের দাম অনেক বেশি হয়ে যায় এই বিমান ভাড়ার ধাক্কায়। সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায় হজের খরচ।
২০২৩ সালে হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া ছিল সর্বোচ্চ। সেবার ভাড়া ধরা ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা। রেকর্ড পরিমাণ ছিল প্যাকেজের খরচও। নানা সমালোচনার পর ২০২৪ সালে ভাড়া খানিকটা কমে। ৩ হাজার টাকা কমিয়ে ভাড়া ঠিক করা হয়। ২০২৫ সালে আগের বছরের তুলনায় আরও কমে ২৬ হাজার ৯৮০ টাকা। ২০২৬ সালের হজে তা কমানো হয় আরও ১২ হাজার ৯৯০ টাকা।
আগামী বছরে হজযাত্রীদের ভাড়া আরও ১২ হাজার ৫২৪ টাকা কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিমান, অর্থাৎ আগামী বছরের ভাড়া হবে ১ লাখ ৪২ হাজার ৩০৬ টাকা। এর ফলে গত চার বছরের ব্যবধানে হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া কমবে ৫৫ হাজার টাকা।
ভাড়া কমানোর এ প্রস্তাব প্রস্তুত করেছেন বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ, যা আজ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছাবে। সেখান থেকে যাবে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে, যাদের নেতৃত্বে হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়।
মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বিমানের এমডি বলেছেন, ‘২০২৭ সালেও বিমানকে অর্ধেক হজযাত্রী বহনের নিশ্চয়তা দিতে হবে। বাংলাদেশের কোটায় অন্য কোনো এয়ারলাইনসকে যাত্রী বহনের সুযোগ দেওয়া হলে বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকারি-বেসরকারি সব হজযাত্রীর ঢাকা থেকে যাত্রা শুরুর তাগিদ রয়েছে এমডির চিঠিতে। চট্টগ্রাম বা সিলেট থেকে সরাসরি যাত্রী বহনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়ার সঙ্গে অতিরিক্ত ১০০ ডলার দিতে হবে বলেও জানিয়েছেন এমডি।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের ১৪ বা ১৫ মে হজ পালিত হবে। হজ প্যাকেজ ঘোষণার সুবিধার্থে আগেই ভাড়া নির্ধারণ করে বিমান। এরপর বিভিন্ন পক্ষকে ডেকে এবং সৌদি সরকারের চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়। ভাড়া নির্ধারণের সময় বিমান ডলারের বিনিময় হার, দুই দেশের সরকার নির্ধারিত কর, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধপরিস্থিতি এবং ফ্লাইট পরিচালনার নির্ধারিত ব্যয় বিবেচনায় নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন একজন পরিচালক ।
ওই পরিচালক আরও জানিয়েছেন, গত ২৬ জুন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া সাশ্রয়ী রাখার অনুরোধ করেছে। শুধু ধর্ম মন্ত্রণালয়ই নয়; সরকারেরও মেসেজ হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া কম রাখতে হবে। সরকারের এ বার্তা পেয়েই বিমান চেষ্টা করছে ভাড়া কম রাখার। এর ফলে প্যাকেজ খরচও কমবে বলে জানান ওই পরিচালক।
বিমান ভাড়া যত বেশি হয়, হজ প্যাকেজের দামও তত বেশি হয়। বিমান ভাড়ার সঙ্গে যোগ হয় সৌদি সরকার নির্ধারিত কিছু খরচ। এর মধ্যে রয়েছে হজ ভিসা, নিবন্ধন ও অন্যান্য সরকারি ফি, মক্কা-মদিনায় হোটেলে থাকার খরচ, জেদ্দা বা মদিনা থেকে মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফার যাতায়াত খরচ এবং মিনা আরাফাতে তাঁবু ও সেবা খরচ।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হজের মোট ব্যয়ের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই সৌদি আরবে নির্ধারিত বিভিন্ন সেবার জন্য ব্যয় হয়। বাকি অংশের বড় উপাদান হলো বাংলাদেশ থেকে যাওয়া-আসার বিমান ভাড়া।
২০২৩ সালের হজ প্যাকেজই সবচেয়ে দামি। সেবার সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজ ছিল ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮ টাকা। পরের বছরের হজ প্যাকেজ ছিল ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪০ টাকা। গত বছরের প্যাকেজ ছিল ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪১ টাকা। চলতি বছর হজ হয়েছে গত মে মাসে। এবারের প্যাকেজ ছিল ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা।






