মুষলধারে বৃষ্টিতেও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা সচল

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর— সংগৃহীত
মুষলধারে বৃষ্টির কারণে নগরজুড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানি জমেছে পণ্য রাখার চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ডেও। আর্শ্চয্যজনকভাবে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর দিয়ে উড়োজাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ছিল। আজ বুধবার সকাল থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত ২৬টি ফ্লাইটের সবকটাই শিডিউল অনুযায়ী নেমেছে। কোন ফ্লাইট বাতিল হয়নি। কিংবা ফেরত (ডাইভার্ট) যেতে হয়নি।
মঙ্গলবার যেখানে শিডিউল এলোমেলো হওয়ার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছিলেন যাত্রীরা। বুধবার সেই তুলনায় স্বস্তিতে ছিলেন।
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রকৌশলী ইবরাহিম খলিল জানিয়েছেন, মঙ্গলবার আকাশে বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার। বুধবার গতি কমে হয় ২৫ কিলোমিটার। এই কারণে বৃষ্টি প্রচুর থাকার পরও উড়োজাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক ছিল।
এত বৃষ্টির কারণে রানওয়েতে পানি জমে যাওয়ার কথা। দুই বছর আগে রানওয়ে দুই ফুট উঁচু করা হয়েছে। একই প্রকল্পে পানি নিস্কাশনের ড্রেনেজ সিস্টেমও উন্নত করা হয়েছে। ফলে রানওয়েতে পানির দেখা মেলেনি-যোগ করেন তিনি।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ৬২২ কোটি টাকা ব্যয়ে রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে শক্তিশালীকরণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। একই প্রকল্পে বিমানবন্দরের লাইটিং সিস্টেমকে আধুনিক রূপ দেওয়া হয়েছে। এতে করে আগের তুলনায় বিশেষ করে বৈরী আবহাওয়ায় উড়োজাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন হয়েছে। তবে সোমবার রাতে প্রচুর বৃষ্টির কারণে বিমানবন্দর ভবনের সামনে পার্কিংয়ে পানি জমে ব্যাপক যাত্রী ভোগান্তি তৈরী হয়। মঙ্গলবার থেকে অবশ্য আর পানি জমেনি।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, পার্কিংয়ে পানি ড্রেনেজ দিয়ে যাওয়ার জন্য বেশকটি স্লুইচগেট আছে। সেগুলো পরিচালনা করে সিটি কর্পোরেশন। মঙ্গলবার থেকেই সেই গেইট খুলে দেয়ায় আর পানি জমেনি। এই বিমানবন্দর দিয়ে বছরে ১৬ লাখ ৬৮ হাজার যাত্রী চলাচল করে। আভ্যন্তরীণ ও আন্তজাতিক মিলিয়ে বছরে ১৯ হাজারের বেশি ফ্লাইট এই বিমানবন্দর দিয়ে যাত্রী পরিবহন করে। দেশের মোট আকাশপথের যাত্রীর ২১ শতাংশ এই বিমানবন্দরটি ব্যবহার করেন। যাত্রী সেবার পাশাপাশি এটি বছরে প্রায় ৬ হাজার টন কার্গো বা মালামাল পরিবহনেও সক্ষম।





