২৭৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ, হাসিনা-রেহানার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা। ছবি: সংগৃহীত
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে ২৭৬ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ বৃহস্পতিবার বিকালে দুদক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।
দুদকের ঢাকা জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারকেও আসামি করা হয়েছে।
দুদক জানায়, ৪১টি ব্যাংকের (করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার তহবিল (সিএসআর ফান্ড) থেকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর নামে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলাটি হয়েছে।
দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান জানান, অনুসন্ধানকালে দেখা যায়, শেখ হাসিনাকে সভাপতি এবং শেখ রেহানাকে সহ-সভাপতি করার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট গঠন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি সমাজসেবা অধিদপ্তর ও এনজিওবিষয়ক ব্যুরোতে অনুমোদন না থাকার পরও ৪১টি তফসিলি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা অবৈধভাবে নিয়ে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি করেছেন।
এ ছাড়া এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, বিএবির চেয়ারম্যান হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুকূলে অর্থ দিতে ব্যাংকগুলোকে বাধ্য করেছিলেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়।
এজাহারে বলা হয়, বিএবির নির্বাহী কমিটির সভার আলোচ্যসূচিতে না থাকার পরও বিবিধ আলোচনায় উপস্থাপন করে বিভিন্ন নির্বাহী কমিটির সভার মাধ্যমে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে এই অর্থ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এ সিদ্ধান্তের আলোকে ট্রাস্টে টাকা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হয়।
দুদক সচিবের দাবি, আসামিরা অপরাধমূলক আচরণের মাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তারা প্রতিশ্রুত কোনো কাজ না করেই ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে এই টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন।
আসামিদের মধ্যে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা এখন ভারতে আশ্রয় নিয়ে আছেন। তার বোন শেখ রেহানা রয়েছেন যুক্তরাজ্যে। নজরুল মজুমদার গ্রেপ্তার হয়ে এখন আছেন কারাগারে।






