সেই স্কুলশিক্ষিকা বললেন, ‘সবাই পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমি কৃতজ্ঞ’

বিউটি পাল
গানের একটি রিলস ভিডিও করেছিলেন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের স্কুলশিক্ষিকা বিউটি পাল। সেই একটি ছোট্ট ভিডিওতে তিনি হয়ে উঠেছেন টক অব দ্য কান্ট্রি। তার দিকে ধেয়ে আসছে সমালোচনার তীর। তবে তিনি একেবারে একা হয়ে পড়েননি। পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন অনেকে। তাদের প্রতিই কৃতজ্ঞতার কথা জানালেন এই স্কুলশিক্ষিকা।
বিউটি বললেন, ‘সবাই আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, এজন্য আমি কৃতজ্ঞ।’
এই স্কুলশিক্ষিকা যদিও সমালোচকদের উদ্দেশ্যে কোনো কথা বলতে চাইলেন না। এমনকি আলাপ বাড়ালেন না ভিডিওটি নিয়েও। শুধু বললেন, ‘বিষয়টি নিয়ে এখন কিছু বলতে পারব না।’
বক্তব্য দিতে হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিউটি পাল।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বিউটি পাল নিজের ফেসবুক আইডি থেকে ডিফারেন্ট টাচ ব্যান্ডের গাওয়া ‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে’ গানের সঙ্গে কয়েক সেকেন্ডের একটি রিল পোস্ট করেন। ভিডিওতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শাড়ি পরিহিত অবস্থায় তাকে হাঁটাহাঁটি ও বিভিন্ন ভঙ্গিতে দেখা যায়।
অল্প সময়ের মধ্যেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তার সমালোচনা করেন। কেউ কেউ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান। পরে বিউটি ভিডিওটি ফেসবুক থেকে সরিয়ে নেন।
তবে ঘটনার পর এই শিক্ষিকার পাশে দাঁড়িয়েছেন সহকর্মী শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল ও সাইবার বুলিংয়ের নিন্দা জানিয়ে বিউটির প্রতি সংহতি জানিয়েছেন।
এই গানের সঙ্গে রিলস ভিডিও করা বিউটিকে নিয়ে ডিফারেন্ট টাচ ব্যান্ডের প্রধান ভোকাল মেজবাহ রহমান বললেন, ‘আমরা সবসময়ই বাবা-মায়ের পরে শিক্ষকদের স্থান দিই। সেক্ষেত্রে শিক্ষকদের তো কিছু জিনিস শিক্ষার্থীদের জন্যই মেনে চলতে হয়। তবে এই রিলস ভিডিও নিয়ে যেটা করা হচ্ছে, সেটা মোটেও কাম্য নয়।’
‘আমার কাছে এটাকে তো নেতিবাচক কিছু মনে হয়নি। এখানে একটি শ্রেণি আসলে কী অনৈতিক জিনিস খুঁজে পেল, আমি ঠিক বুঝতেছি না। আমরা সামাজিক মাধ্যমকে কোনোভাবেই অস্বীকার করতে পারি না, কারণে-অকারণে সেটার দ্বারস্থ হতেই হয়। ফলে এটার একটা দিক দেখেই কাউকে দোষারোপ করে দেওয়াও কাজের কথা নয়।’
এই ঘটনার কারণে ফেঞ্চুগঞ্জ শিক্ষা বিভাগ তদন্ত কমিটি করে পুরো বিষয়টি তদন্ত করবে। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হিসেবে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
তবে মেজবাহ রহমান বললেন, ‘এটা নিয়ে আসলে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশন নেওয়া হলে বিষয়টি হয়তো সঠিক হবে না। আমার মনে হয় এটাকে নমনীয়ভাবেই দেখা উচিত। কেননা এটা কোনো নেতিবাচক ভিডিও ছিল না।’






