রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কার্যকর সহায়তা চান শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। আজ বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘অনিশ্চিত প্রত্যাবর্তন: প্রত্যাবাসন বাধা নিয়ে রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর’ শীর্ষক জাতীয় নীতি প্রচার কর্মসূচিতে। ছবি: আগামীর সময়
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে শুধু সমর্থন নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
আজ বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘অনিশ্চিত প্রত্যাবর্তন: প্রত্যাবাসন বাধা নিয়ে রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর’ শীর্ষক জাতীয় নীতি প্রচার কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
শামা ওবায়েদ বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত এবং বাংলাদেশ অনির্দিষ্টকাল ধরে এই সংকটের বোঝা বহন করতে পারে না।
মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার প্রতিশ্রুতি দিলেও এক দশকেও তাতে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
শরণার্থী সংকট যে কক্সবাজারে ভিন্ন সমস্যা তৈরি করছে, তাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ক্রমবর্ধমান অপরাধ ও নিরাপত্তাহীনতার প্রভাবকে ‘নতুন স্বাভাবিক অবস্থা’ হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না।
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ভাষণের কথাও তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ, যেখানে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পথ নির্দেশনার লক্ষ্যে একটি ‘জাতীয় কৌশল প্রণয়ন কমিটি’ গঠনের বিষয়টি ছিল।
জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসন-প্রত্যাশা নিয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের পরিচালিত গবেষণার প্রসঙ্গ টেনে শামা ওবায়েদ বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারকে তাদের আবাসভূমি হিসেবে প্রত্যাখ্যান করছে না; বরং তারা এমন পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে অস্বীকার করছে, যা তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করেছিল।
তিনি একটি বিশ্বাসযোগ্য কর্মপরিকল্পনার মূল স্তম্ভ হিসেবে স্বীকৃতি ও পরিচয়, ভূমি ও সম্পত্তি, নিরাপত্তা এবং বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তাসহ পারস্পরিক আস্থার বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করেন।
‘প্রত্যাবাসন হলো আস্থার বিষয় এবং রোহিঙ্গারা দয়া বা অনুদান নয়, বরং তাদের অধিকারের দাবি জানাচ্ছে,’ বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা একটি গবেষক দলের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। এই গবেষণায় কক্সবাজারের উখিয়ায় ১৭টি ক্যাম্পের ৮১৬ জন রোহিঙ্গার মতামত নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ৭২টি সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগ এবং ক্রিমিনোলজি রিসার্চ ফোরাম যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ক্রিমিনোলজি বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝেও প্রতিমন্ত্রী পুরস্কার বিতরণ করেন।




