শাহজালাল বিমানবন্দরে ইটিডি পরিচালনায় ৪৪ এভসেক সদস্যকে প্রশিক্ষণ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (হশআবি) নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ২৫টি নতুন এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেক্টর (ইটিডি) সংযোজন করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এসব যন্ত্র পরিচালনায় এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) ৪৪ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে যন্ত্রটির মূল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান (ওইএম)-এর বিশেষজ্ঞরা প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রশিক্ষণে ইটিডির সঠিক পরিচালনা, নমুনা সংগ্রহ, শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া, ফলাফল বিশ্লেষণ এবং অপারেশনাল নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের ব্যবহারিক জ্ঞান ও দক্ষতা দেওয়া হয়।
বেবিচক জানিয়েছে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে NUCTECH TR2000DC মডেলের ২৫টি নতুন ইটিডি সংযোজন করা হয়েছে। আধুনিক এই প্রযুক্তি অতি সামান্য পরিমাণে অবশিষ্ট থাকা বিস্ফোরক ও অবৈধ মাদকজাতীয় পদার্থ শনাক্ত করতে পারে।
যন্ত্রটি আয়ন মোবিলিটি স্পেকট্রোমেট্রি (আইএমএস) প্রযুক্তিতে কাজ করে। এতে অ-তেজস্ক্রিয় আয়নীকরণ উৎস ব্যবহার করা হয়। ফলে যাত্রীদের ব্যাগেজ, কার্গো এবং বিভিন্ন পৃষ্ঠে থাকা অতি ক্ষুদ্র মাত্রার সন্দেহজনক পদার্থ দ্রুত শনাক্ত করতে এটি সহায়ক হবে।
বেবিচকের ভাষ্য, নতুন ইটিডি প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে শাহজালাল বিমানবন্দরে বিস্ফোরক ও মাদক শনাক্তের সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা তল্লাশির কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি দ্রুত চিহ্নিত করার সক্ষমতাও উন্নত হবে। প্রচলিত নিরাপত্তাব্যবস্থার পরিপূরক হিসেবে এসব প্রযুক্তি বিমানবন্দরের বহুস্তরীয় নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জামের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট জনবলের প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বেবিচক। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা ইটিডির সক্ষমতা যথাযথভাবে কাজে লাগানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা তল্লাশির নির্ধারিত পদ্ধতি ও মানদণ্ড অনুসরণ করতে পারবেন।
বেবিচক আরও জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অডিট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে শাহজালাল বিমানবন্দরে আধুনিক ইটিডি সংযোজন ও সংশ্লিষ্ট জনবলের দক্ষতা উন্নয়ন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সক্ষমতা ও প্রস্তুতি আরও জোরদার করবে।
প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল ও কার্যকর নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার সমন্বয়ের মাধ্যমে বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার উদ্যোগ হিসেবে এটিকে দেখছে বেবিচক। সংস্থাটির মতে, এর ফলে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচলব্যবস্থার প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থাও আরও বাড়বে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পর পর্যায়ক্রমে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম; ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেট এবং কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও সংশ্লিষ্ট জনবলের জন্য একই ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে।
বেবিচক জানিয়েছে, দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ জনবল তৈরি এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপদ বিমান চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।





