প্রধানমন্ত্রীর ছবিহীন ব্যানারে সরকারি অনুষ্ঠান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক বর্ণাঢ্য ছিমছাপ অনুষ্ঠান। ছিল ব্যানার-ফেস্টুন। শুধু ছিল না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি। অনুষ্ঠানে অতিথিদের অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে বিষয়টি। আজ বৃহস্পতিবার ছিল এই অনুষ্ঠান।
সাভার থেকে আসা পরিবেশকর্মী সুলায়মান নিলয় বললেন, ‘এটা খুবই দৃষ্টি আকর্ষণ হওয়ার মতো ঘটনা—আজকের অনুষ্ঠানের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর কোনো ছবি নেই। দুই দিন আগেই পত্রিকায় একটি নিউজ দেখেছিলাম যে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই নির্দেশ দিয়েছেন সরকারি অনুষ্ঠানে তার ছবি যেন ব্যবহার না করা হয়। তার নির্দেশের প্রতিফলন আজকের অনুষ্ঠানে দেখছি। আগে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর একটি ছবি থাকত বড় করে।’
গত ৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এসংক্রান্ত নির্দেশে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ পরিপত্র জারি করে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে বানানো ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি (থ্রি-ডি বা অন্য কোনো আঙ্গিকে) ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হলো। সরকারি অনুষ্ঠানে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড প্রস্তুতের ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দিয়ে প্রয়োজনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের নকশা এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে এবং বার্তা ও বিষয়বস্তু সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে বৃহৎ সম্মেলন কেন্দ্রের মূল মঞ্চে এবং চারপাশে দেয়ালে টাঙানো হয় পরিবেশসংক্রান্ত নানা স্লোগানসংবলিত ২০টি ব্যানার-ফেস্টুন।
এই ব্যানার-ফেস্টুন ছিল কীভাবে পরিবেশ রক্ষা করা হবে, কীভাবে প্রাণিকুলসহ জীববৈচিত্র্য ঠিক রাখা যাবে, কীভাবে গাছ রোপণ করা হবে, কীভাবে গাছের পরিচর্চা করতে হবে- সে সংক্রান্ত কথার মালা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানজিদা খাতুনের ভাষ্য, ‘অতীতে দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রীর ছবি বড় করে প্রকাশ করার প্রবণতা। যে জন্য অনুষ্ঠান, সেটি এমনভাবে লেখা থাকত— বোঝা যেত না। ফলে অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য আড়ালে থেকে যেত।’
‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই সংস্কৃতি থেকে সরে আসার উদ্যোগ নিয়েছেন। এটা অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। আপনি খোঁজ নিয়ে দেখেন, প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা সবার মনের কথা। আমি এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই,’ যোগ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, সরকারি ও বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।





