ঢাকায় স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি সম্মেলন : লক্ষ্য চিকিৎসায় বৈষম্য দূরীকরণ

সংগৃহীত ছবি
নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার জন্য দুই দিনব্যাপী উপযুক্ত প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনে সম্মেলনটি শুরু হয়ে। ফোরামে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর চিকিৎসাপ্রযুক্তিগত বৈষম্য দূরীকরণে শীর্ষস্থানীয় স্থানীয় ও বৈশ্বিক বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য রাখেন।
এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
প্রথম দিন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে ইলেকট্রিক্যাল বায়ো-ইম্পিডেন্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে স্থানীয় বিশেষজ্ঞ ড. হুমায়রা ফেরদৌস, অধ্যাপক মো. আব্দুল কাদির এবং ড. মাহজাবিন মুবারক বিশেষায়িত তথ্য উপস্থাপন করেন।
উদ্বোধনী অধিবেশনে সম্মেলন সভাপতি অধ্যাপক খোন্দকার সিদ্দিক-ই রব্বানী ১৯৭৮ সাল থেকে বাংলাদেশে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে মাইলফলক অর্জনগুলোর ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি উদ্ভাবকদের নিজস্ব উদ্যোগের মাধ্যমে এই উদ্ভাবনগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং এর পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। সম্মেলনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক তৌফিক হাসান বুয়েটে গড়ে বায়োমেডিকেল উদ্ভাবনের ওপর একটি উপস্থাপনা দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতি বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসেন সমাপনী বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে তিনি ঘোষণা করেন, এই সম্মেলনের ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সম্মেলন ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ অনুষ্ঠিত হবে।
উদ্বোধনী দিনে উচ্চ-প্রভাবশালী ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর আলোকপাত করে বিশেষায়িত প্লেনারি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সায়েবা আক্তার প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণ বন্ধ করার জন্য অত্যন্ত কার্যকর জীবনরক্ষাকারী স্থানীয় পদ্ধতি সায়েবা’স মেথড নিয়ে আলোচনা করেন। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আহমেদ মুশতাক রেজা চৌধুরী ব্র্যাকের যুগান্তকারী ওরাল রিহাইড্রেশন (খাবার স্যালাইন) কর্মসূচির ওপর ভিত্তিতে জনসংযোগের যোগাযোগ কৌশলগুলো নিয়ে আলোচনা।
এই যুগান্তকারী ইভেন্টটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ, বুয়েটের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ, বাইবিট লিমিটেড এবং রিলভেন্ট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সোসাইটি, বাংলাদেশ।
বিশেষ অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম. এ. মুহিত, জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির উপাচার্যবৃন্দ এবং বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি।




