ডেঙ্গুতে মৃত্যুর অর্ধেকের বেশি ঢাকায়
- চলতি বছর সারা দেশে মৃত্যু ৮৮, ঢাকায় ৪৫
- মোট আক্রান্ত ৩০,৮৩০
- আগস্টেই মারা গেছে ৩৪ জন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আগস্টের প্রথম ২৫ দিনে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ হাজার ৫২০ জন। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন ৬২১ ব্যক্তি মশাবাহিত এই রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৩১০ জন। সে হিসেবে চলতি মাসের এই হিসাব গত সাত মাসের মোট রোগীর সংখ্যার চেয়ে বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র উঠে এসেছে।
অবশ্য জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আগেই সতর্ক করেছিলেন যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে জুলাই থেকে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকবে। আগস্টে সেই ধারা হবে আরও ঊর্ধ্বমুখী। এ সময় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়বে। সেই সতর্কবার্তাই যেন বাস্তব চেহারা পেতে শুরু করেছে চলতি মাসে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বে-নজীর আহমেদ বললেন, ‘জনস্বাস্থ্যবিদদের আগাম সতর্কবার্তা মিলে যাচ্ছে মানে সরকার ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি। অথবা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তা কার্যকর হচ্ছে না। এ বছর লম্বা সময় ধরে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সরকার যেভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করছে, তাতে সেপ্টেম্বরেও ডেঙ্গু রোগী বাড়বে।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজন মারা গেছেন। মৃতের সবাই ঢাকা বিভাগের। এ নিয়ে চলতি বছরে এই বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫। অার এ সময় সারা দেশে মারা গেছেন ৮৮ জন। অর্থাৎ মশাবাহিত এ রোগের মৃত্যুর অর্ধেকের বেশি ঘটেছে এই বিভাগে। এরপর বেশি মৃত্যুর ঘটনা খুলনা বিভাগে। এই বিভাগে আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যু বেশি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বে-নজীর আহমেদ আরও বলছেন, ঢাকায় অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে এডিস মশা জন্মানোর সুযোগ বেশি। পাশাপাশি এই বিভাগে জনসংখ্যা ও জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি। এমনকি বড় হাসপাতালের সংখ্যাও এই বিভাগে উল্লেখযোগ্য। তাই ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনা বেশি।
খুরশীদা বেগম পুরান ঢাকার একটি জুতার কারখানায় কাজ করতেন। ২৭ বছর বয়সী এই নারী দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে থাকতেন কামরাঙ্গীর চরে। কয়েক দিনের জ্বরে শরীর বেশি দুর্বল হয়ে গেলে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। হাসপাতালে নেওয়ার এক দিনের মাথায় গত শনিবার মারা যান এই নারী। তিনিসহ সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় মারা যাওয়া তিনজনই নারী।
ডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য আরও বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৯০৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে রোগীও সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে, ৩০৫ জন। আর চলতি বছরে এই বিভাগে রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ৩৯৭। এরপর বরিশাল, চট্টগ্রাম, খুলনা বিভাগে রোগী বেশি। প্রতিদিনই এসব বিভাগে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আসছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে এ সময় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩০ হাজার ৮৩০, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি। গত বছর একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৯ হাজার ৪৪। তবে আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুর ঘটনা আবার চলতি বছর কম।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বললেন, ‘সরকার এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের তুলনায় চিকিৎসাব্যবস্থায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সেটিও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় নয়। তৃতীয় পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে। েস কারণে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমছে না।’







