বিনা রিং-অপারেশনে হৃদরোগ প্রতিকারের দাবি সাওলের

সাওল বাংলাদেশের হার্ট ও লাইফস্টাইল বিষয়ক সেমিনার। ছবি: সংগৃহীত
হৃদরোগের ঝুঁকি, হার্ট ব্লকেজের কারণ এবং জীবনযাপনে পরিবর্তনের মাধ্যমে হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন দিক নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাওল হার্ট ও লাইফস্টাইল সেমিনার। আজ শনিবার ঢাকায় সাওল হার্ট সেন্টার, বাংলাদেশের উদ্যোগে ৭৬২তম সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। একই দিনে সাওলের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট শাখায় যথাক্রমে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৭৬৩তম, ৭৬৪তম ও ৭৬৫তম সেমিনার। এতে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হৃদরোগী ও সচেতন মানুষ।
সেমিনারে হার্ট ব্লকেজের উৎপত্তি, হৃদরোগের বিভিন্ন ঝুঁকি এবং তা নিয়ন্ত্রণে করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন সাওল হার্ট সেন্টার, বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক ডা. জাবিদ-উল-কাদির জোয়ার্দ্দার। তিনি বলেন, হৃদরোগ প্রতিরোধে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে পরিবর্তনের পাশাপাশি অত্যাধুনিক ইইসিপি চিকিৎসা, সাওল ডিটক্স ও সমন্বিত চিকিৎসাপদ্ধতির বিভিন্ন দিক গুরুত্বপূর্ণ।
ডা. জাবিদ-উল-কাদির জোয়ার্দ্দারের দাবি, হার্ট ব্লকেজের প্রচলিত চিকিৎসায় রিং পরানো বা বাইপাস অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। তবে সাওল পদ্ধতিতে রিং বা অস্ত্রোপচার ছাড়াই চিকিৎসা সম্ভব। তার ভাষ্য, প্রাকৃতিক বাইপাস, সাওল ডিটক্স, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, ইয়োগা, মেডিটেশন ও জীবনযাপনের পরিবর্তনের সমন্বিত পদ্ধতির মাধ্যমে হার্ট ব্লকেজ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। পরে সেমিনারে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
ভিডিও বক্তব্যের মাধ্যমে হৃদরোগের কারণ, ঝুঁকি ও প্রতিরোধের বিভিন্ন উপায় নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন উপমহাদেশের হৃদরোগ ও জীবনযাপন বিশেষজ্ঞ ডা. বিমল ছাজেড়।
সেমিনারে নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন সাওল হার্ট সেন্টার, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কবি মোহন রায়হান। তিনি জানান, একসময় তার হার্টে ব্লকেজ ধরা পড়লে রিং পরানো ও বাইপাস অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে জীবনযাপনে পরিবর্তন ও সাওল পদ্ধতির সমন্বিত চিকিৎসা গ্রহণের পর তিনি সুস্থ রয়েছেন।
কবি মোহন রায়হান বলেন, ‘দীর্ঘ ১৮ বছর আমি রিং না পরে, অপারেশন না করে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করছি।’ একই সঙ্গে হৃদরোগ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে সাওল আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
সাওল হার্ট সেন্টার, বাংলাদেশের কার্যক্রমের পটভূমি তুলে ধরে কবি মোহন রায়হান বলেন, হৃদরোগ প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসা নয়, মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা জরুরি। তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সেমিনারে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন নিয়ে আগ্রহ তৈরি করে।
সেমিনারে নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, তেল-চর্বিমুক্ত স্বাস্থ্যসম্মত রান্না, নিয়মিত ইয়োগা ও মেডিটেশন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জীবনযাপনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সচেতনতা ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
সাওল হার্ট সেন্টার, বাংলাদেশ জানিয়েছে, গত ১৮ বছর ধরে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ, জীবনধারায় পরিবর্তন, ইয়োগা-মেডিটেশন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সমন্বিত চিকিৎসার মাধ্যমে হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। হৃদরোগ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের চর্চা গড়ে তোলাই প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য।
আগামী ২২ সেপ্টেম্বর সাওলের পরবর্তী হার্ট ও লাইফস্টাইল সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এতে হৃদরোগের ঝুঁকি, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে পরিবর্তন এবং হৃদরোগ প্রতিরোধের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।




