স্বাস্থ্য টিপস
প্রবীণদের একাকিত্ব ডেকে আনে বড় সমস্যা

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে সাধারণত ৬০ বছর বয়সকে বার্ধক্যের সূচনালগ্ন ধরা হয়। এ সময় একজন মানুষের জীবনে শারীরিক ও মানসিকভাবে বড় ধরনের পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে আসে। পেশাজীবন থেকে হুট করে অখণ্ড অবসর তাকে একধরনের শূন্যতা তৈরি করে। এ পীড়াদায়ক অনুভূতি থেকেই শুরু হয় মানসিক সংকটের নানা অধ্যায়।
অবমূল্যায়ন ও মানসিক বিষণ্নতা
মানসিক স্বাস্থ্যের অন্যতম বড় নিয়ামক হলো প্রোডাক্টিভ থাকা। যখন একজন প্রবীণ ব্যক্তি দেখেন যে সমাজ বা পরিবারে তার আগের প্রভাব নেই, তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। বিশেষ করে অর্থনৈতিক উপার্জন বন্ধ হয়ে গেলে তাদের মধ্যে একধরনের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। এই বোধ থেকে জন্ম নেয় দীর্ঘমেয়াদি বিষণ্নতা।
উদ্বেগ ও মৃত্যুচিন্তার প্রভাব
প্রবীণ বয়সে একাকিত্ব যখন জেঁকে বসে, তখন মানুষের মনে মৃত্যুচিন্তা ও পরকাল নিয়ে গভীর উদ্বেগ বা ‘এংজাইটি’ কাজ করতে থাকে। হাতে থাকা অফুরন্ত অলস সময়ে তারা জীবনের ফেলে আসা ব্যর্থতা বা ভুলগুলো নিয়ে বারবার ভাবতে থাকেন। সন্তানদের থেকে দূরে থাকা বা তাদের সঙ্গে আগের মতো যোগাযোগ না থাকা এই যন্ত্রণাকে বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়।
শরীর ও মনের নিবিড় যোগসূত্র
আমরা অনেক সময় প্রবীণদের শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও তাদের মনের খবর নিতে ভুলে যাই। অথচ শরীর ও মন একে অপরের পরিপূরক। এ ছাড়া এই বয়সে ‘ডিমেনশিয়া’ বা স্মৃতিভ্রমের মতো গুরুতর রোগ দেখা দেয়। প্রবীণদের একাকিত্ব কেবল তাদের ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, বরং এটি সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যা। তাদের অলস সময়টুকুকে পরিবারের সঙ্গে আনন্দময় করে তোলা এবং তাদের অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করা জরুরি।
লেখক: মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সাইকিয়াট্রিস্ট সহযোগী অধ্যাপক, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল






