কোস্টগার্ড পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, চার মাসেও সন্ধান নেই মিরাজের

মিরাজের পরিবার ও হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির সংবাদ সম্মেলন। ছবি : সংগৃহীত
বাগেরহাটের মোটরসাইকেল চালক মিরাজ শেখকে কোস্টগার্ড সদস্যরা তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছে তার পরিবার। গত ১০ এপ্রিল তাকে নিয়ে যাওয়ার পর চার মাসের বেশি সময় পার হলেও এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে করা হয় এসব অভিযোগ।
মিরাজকে ফিরে পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবার ও হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি।
সংবাদ সম্মেলনে মিরাজের বোন লিজা ইসলাম বলেছেন, গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে বাগেরহাটের জয়মনি ঠোড়ার কোচঘাট হারবাড়িয়া স্টেশন থেকে দুইজন সিভিল পোশাকধারী কোস্টগার্ড সদস্য এবং তাদের সঙ্গে থাকা মিজান মাঝি একটি নৌকায় করে জয়মনি এলাকায় আসেন।
লিজা ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, কোস্টগার্ড সদস্যরা মিরাজকে মান্নানের জালেবোটে তুলে হারবাড়িয়া স্টেশনে নিয়ে যান। সেখানে নেওয়ার আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে মোংলার দিক থেকে একটি কোস্টগার্ডের স্পিডবোট আসে। ওই স্পিডবোটে আনুমানিক ৮-১০ জন ইউনিফর্ম পরিহিত কোস্টগার্ড সদস্য ছিলেন।
‘‘স্পিডবোটটির গায়ে স্পষ্টভাবে ‘বাংলাদেশ কোস্টগার্ড’ লেখা ছিল। তারা মিরাজ শেখকে ওই স্পিডবোটে করে নিয়ে চলে যায়’’, বলছিলেন লিজা। ঘটনাটি উপস্থিত গ্রামবাসী ও মিরাজের স্ত্রীর সামনেই ঘটে বলে দাবি করেন তিনি।
মিরাজকে নিয়ে যাওয়ার পর গত ২৩ এপ্রিল একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। গত ১০, ১১ ও ১২ এপ্রিল কোস্টগার্ড সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা মিরাজ তাদের হেফাজতে থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। অপরাধ না পাওয়া গেলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তারা।
‘গত ১১ এপ্রিল সকালে মিরাজের স্ত্রী দিগরাজ কোস্টগার্ড বেজে গেলে উকাসিং নামে এক সদস্য জানান, মিরাজকে নিয়ে অপারেশনে যাওয়া হবে। ভেতর থেকে একজন কর্মকর্তা তাকে কিছু খেতে দিতে বলেন, কারণ সে আগের রাত থেকে না খেয়ে ছিল। তবে বিকেলে গেলে শাহিন নামে এক কর্মকর্তা মিরাজকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করেন’, অভিযোগ মিরাজের বোন লিজার।
সংবাদ সম্মেলনে মিরাজের স্ত্রী মুক্তা ফাতেমা বলেছেন, স্বামীকে ফিরে পেতে তারা মানববন্ধন করেছিলেন। এরপর তাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়। তার ওপর হামলা চালানো হয়। তাদের মারধর করে মামলা দেওয়া হয়। পরে তারা ২৭ দিন জেলে ছিলেন।
এরপরও এখন পর্যন্ত স্বামীর কোনো খোঁজ পাননি বলে জানান মুক্তা ফাতেমা।
মিরাজের মা তাসলিমা বেগম বলেছেন, ‘আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই।’
‘প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আটক করা যেতে পারে। আটকের পর তাকে সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে আদালতে পাঠাতে হবে বিচারের জন্য’, বলছিলেন মানবাধিকার কর্মী নুর খান লিটন।







