চালু হচ্ছে মসজিদ পাঠাগার কার্যক্রমের চতুর্থ পর্যায়, ব্যয় হবে ৩৮ কোটি ৯৯ লাখ টাকা
- তদারকির আওতায় আসছে বিভিন্ন পর্যায়ে স্থাপিত ৩৮ হাজার ৭৪২টি পাঠাগারের চলমান কার্যক্রম
- ৫ হাজারটি নতুন সাধারণ মসজিদ পাঠাগারের জন্য স্টিল আলমারী ও অন্যান্য আসবাবপত্র কেনা হবে ১০ কোটি ১৪ লাখ টাকায়
- কাজ শুরু করতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের থোক থেকে দেওয়া হবে অর্থ

ছবি: এআই নির্মিত
চতুর্থ পর্যায়ে চালু হচ্ছে মসজিদ পাঠাগার কার্যক্রম। এজন্য গত জুলাই মাসে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ‘মসজিদ পাঠাগার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ (৪র্থ পর্যায়)’ প্রকল্প। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। প্রকল্পের মোট ব্যয় ৫০ কোটির নিচে হওয়ায় এটি অনুমোদন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ধর্মমন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত নতুন প্রকল্পের জন্য রক্ষিত থোক থেকে চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অর্থ বরাদ্দের জন্য দ্রুত পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটি (পিএসসি) বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সন্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ।
বৈঠক সূত্র জানায়, এডিপি তৈরির এ প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়া চলতি অর্থবছরের জন্য কোন বরাদ্দ ছিল না। ফলে তিন মাস পেরিয়ে গেলেও কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু করা সম্ভব হয়নি। এদিকে স্বায়ত্তশাসিত সব প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের পার্সোনাল লেজার (পিএল) একাউন্ট খোলার বিষয়ে অর্থ বিভাগের নির্দেশনা রয়েছে। পিএল একাউন্ট ছাড়া এ অর্থবছরে অর্থ ছাড় হবে না। এজন্য নতুন অনুমোদন পাওয়া এ প্রকল্পের পিএল একাউন্ট খোলার অগ্রগতি বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক জানান, এই একাউন্ট খোলার জন্য ইতোমধ্যেই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ‘মসজিদ পাঠাগার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ (৪র্থ পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের নামে পিএল একাউন্ট জরুরিভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ের পাঠানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে বৈঠকে।
পিএসসি বৈঠকে প্রকল্প পরিচালক প্রকল্পটির বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ‘মসজিদ পাঠাগার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ (৪র্থ পর্যায়)’ প্রকল্পটি গত ১ জুলাই অনুমোদন পায়। এরপর ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ১৬ জুলাই প্রশাসনিক অনুমোদনের আদেশ জারি করা হয়। এটি সম্পূর্ণ সরকারি তহবিলের অর্থে বাস্তবায়িত হবে। চলতি বছর থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত ৩৮ হাজার ৭৪২টি পাঠাগারের চলমান কার্যক্রম তদারকি, মনিটরিং ও ফলো-আপ করা হবে। এ ছাড়া, ৫ হাজারটি নতুন সাধারণ মসজিদ পাঠাগারের জন্য স্টিল আলমারী ও অন্যান্য আসবাবপত্র ১০ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সরবরাহ করা হবে।
তিনি জানান, প্রকল্প মেয়াদে প্রেষণে বা অতিরিক্ত দায়িত্বে একজন প্রকল্প পরিচালক, একজন হিসাবরক্ষক, একজন আউটসোর্সিং কম্পিউটিং সেবার জন্য, একজন আউটসোর্সিং ড্রাইভার লাইট সেবা এবং একজন অফিস সহায়ক এবং সম্মানীভিত্তিতে কেয়ারটেকার পদে ৫৬৪ জন নিয়োগের কাজ শেষ করা হবে।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, দেশের মুসলিম জনগণের ইসলাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানার্জন, পাঠাভ্যাস বৃদ্ধি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য নতুন পাঠাগার স্থাপন করা, বিদ্যমান পাঠাগারে পাঠ সুবিধা বৃদ্ধি করতে নতুন নতুন বই সংযোজন করা হবে। এ ছাড়া মসজিদ পাঠাগারের কার্যক্রম সচল রাখতে পরিদর্শন ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা, পাঠাগার পরিচালনা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের জন্য মসজিদ কমিটির সদস্যদের পাঠাগার পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা।
বৈঠকে সভাপতি ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেছেন, প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ চেয়ে প্রস্তাব দ্রুত মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। এ ছাড়া প্রকল্পের কাজের গতিশীলতা আনতে এবং যথাযথভাবে কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য নিয়মিত প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির (পিএসসি) এবং প্রকল্প ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটির (পিআইসি) সভা নিয়মিত আয়োজন করতে হবে।



