প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি, তদন্তে মেলেনি সন্দেহজনক তথ্য
- চার্জশিট জমা
- অভিযুক্ত ৩ জনই জামিনে মুক্তি

ফাইল ছবি
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লাল টেলিফোনের সংযোগের তার চুরির ঘটনায় নাশকতা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ ও আলামত বিশ্লেষণ করে চুরির ঘটনাটি নিছক চুরি হিসেবেই প্রতীয়মান হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এ ঘটনায় করা মামলার তদন্ত শেষে তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
অভিযুক্তরা হলেন— সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র (২৬), ভাঙারি ব্যবসায়ী রিজাকুল ইসলাম (৩২) ও মো. মাহাবুব হাসান (৩৪)। তাদের তিনজনই বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। রঞ্জন চন্দ্রকে গত বৃহস্পতিবার জামিন দেন আদালত।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ লাল টেলিফোনের সংযোগের তার কেটে নেওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়। বিশেষ করে সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এমন ঘটনা ঘটায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে তদন্তে বড় কোনো নাশকতার পরিকল্পনা কিংবা অন্য কোনো সন্দেহজনক উদ্দেশ্যের তথ্য পাওয়া যায়নি।
সিটিটিসির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. মোর্শেদুল হাসান বলেন, ‘আমাদের তদন্তে সন্দেহজনক কোনো তথ্য মেলেনি। যাবতীয় তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এটি শুধু চুরির ঘটনা বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। পরবর্তীতে তিনজনকে চুরির মামলায় অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।’
জানা গেছে, গত কোরবানি ঈদের সরকারি ছুটি শেষে ১ জুন সচিবালয় খোলার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনে সংযোগ না থাকার বিষয়টি দেখতে পান। পরে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কর্মকর্তারা সংযোগ পুনরুদ্ধার করেন। এ ঘটনায় বিটিসিএলের পক্ষ থেকে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে চুরির মামলা হয়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, সচিবালয়ের পুরোনো এক নম্বর ভবন থেকে নতুন এক নম্বর ভবন পর্যন্ত টেলিযোগাযোগের কপার কেবল ছিল। এসব কেবলের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লাল টেলিফোনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সচল রাখা হতো। অভিযোগ অনুযায়ী, ২২ মে থেকে ১ জুনের মধ্যে সচিবালয়ের পুরোনো ভবনগুলোর ছাদ থেকে প্রায় ১১০ মিটার কপার কেবল চুরি হয়।
তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের পর ৪ জুন সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার চুরির কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানায়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একুশে হলের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী রিজাকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই তামার তার উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তী তদন্তে চোরাই তারের ক্রেতা হিসেবে মো. মাহাবুব হাসানের নাম আসে। তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, রঞ্জন চন্দ্র সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবনের ছাদে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করার সময় কেবল কেটে নেন। পরে তারের ওপরের আবরণ সরিয়ে ভেতরের তামা আলাদা করেন।
তদন্তকারীদের দাবি, রঞ্জন চন্দ্র ওই তারের গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। ছাদে থাকা বিপুল পরিমাণ তামার তার দেখে লোভ থেকেই তিনি তা কেটে নেন। এর আগেও ছোটখাটো জিনিস চুরির কথা তিনি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান।
এদিকে চুরির ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সচিবালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে। তবে তদন্ত শেষে সিটিটিসি বলছে, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য-প্রমাণে চুরির পেছনে নাশকতা, নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।



