নেতাকর্মীদের সঙ্গে ৬ কিমি পথ হাঁটলেন প্রধানমন্ত্রী

নেতাকর্মীদের ভিড়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি আগামীর সময়
নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ— দীর্ঘ ৬ কিলোমিটার পথ নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাঁটলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করে। এই র্যালিতে নেতৃত্ব দেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী একগতিতে হেঁটে চলার পথে অনেক সিনিয়র নেতাকে হিমশিম খেতে দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর সামনে ছিল যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা। তারাও প্রধানমন্ত্রীর অবিরামভাবে হেঁটে যাওয়ার গতি দেখে অবাক হয়েছেন।
র্যালিটি কাকরাইল মোড়, প্রধান বিচারপতির বাসভবনের পাশ দিয়ে রমনা পার্ক সড়ক, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় হয়ে বাংলামোটর, ফার্মগেট, ইন্দিরা রোড হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়।
প্রধানমন্ত্রী সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে র্যালির উদ্বোধন করেন বিকাল সাড়ে ৩টায়। ৬ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মানিক মিয়াতে পৌঁছান সাড়ে চারটায়।
প্রধানমন্ত্রীর পরনে ছিল সাদা হাফ হাতা শার্ট এবং গ্রে কালারের প্যান্ট। পায়ে ছিল নেভি ব্লু কেডস।
প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখতে পুরো পথের দুই ধারে হাজার হাজার মানুষ দাঁড়িয়ে তাকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। উঁচু দালানগুলোতে উৎসুখ মানুষের ভিড় দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাসোজ্জ্বল মুখে হাতে নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘এভাবে কোনো প্রধানমন্ত্রীর টানা হাঁটার দৃশ্য বাংলাদেশে নজিরবিহীন ঘটনা। গণতন্ত্র বিনির্মাণের অভিযাত্রায় এটাই দেশবাসীকে উজ্জীবিত করবে বলে আমি মনে করি।’
‘এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচিতে গিয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটেছেন। পথ জুড়ে কোথাও প্রধানমন্ত্রীর হাঁটার পথে ছন্দপতন ঘটেনি। একটানা হেঁটে গেছেন। অন্য নেতাদেরও বলেছেন, হাঁটেন’, যোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই দীর্ঘ চলার পথে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন।
তবে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে থাকা এসব নেতার পথ চলতে চেহারায় ক্লান্তির ভাব ফুটে ওঠে।
বিকাল ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অস্থায়ী মঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। উঠেই বক্তব্য দেন তিনি।
এ সময়ে মঞ্চে ছিলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ফরহাদ হালিম ডোনার, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খানসহ কেন্দ্রীয় কিছু নেতা।
দুপুর ১২টা থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে সমবেত হতে শুরু করেন। কাকরাইল মোড় থেকে শুরু করে ফকিরেরপুল মোড় পর্যন্ত হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থকদের ঢল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
নেতাকর্মীদের হাতে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আলোকচিত্রসংবলিত প্ল্যাকার্ড রয়েছে। নেতাকর্মীরা বিভিন্ন রঙের ক্যাপ ও গেঞ্জি পরিধান করে র্যালিকে বর্ণাঢ্য রূপ দিয়েছেন।
তারেক রহমান টানা প্রায় দেড় যুগ লন্ডনে নির্বাসিত জীবন শেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন। এরপর তিনি অনেক জনসভা, সমাবেশে বক্তব্য রেখেছেন। দেশে ফেরার পর দলের কোনো র্যালিতে তারেক রহমানের এই প্রথম অংশগ্রহণ। তার অংশগ্রহণ দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা তৈরি করে।



