চাকরি থেকে পালানোর অভিযোগে ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপারসহ ৬ জন বরখাস্ত

ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান
চাকরি থেকে পালানো ও অসদাচারণের অভিযোগে ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানসহ ছয়জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
আজ সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাকিরা হলেন সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে, ঢাকার অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার ছানোয়ার হোসেন (পরবর্তীতে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় সংযুক্ত), রংপুরের রেঞ্জ ডিঅাইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ও খাগড়াছড়ির সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, সচিবালয় নিরাপত্তার সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রাজীব দাস ও সিরাজগঞ্জের সাবেক পুলিশ কমিশনার আরিফুর রহমান মণ্ডল।
প্রজ্ঞাপনে অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে অসদাচারণ ও পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ১৭ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বিভাগীয় মামলার নথি অনুযায়ী, আসাদুজ্জামান ঢাকা জেলার এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ২৭ আগস্টের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে (বিপিএ) সংযুক্ত হন। তিনি একই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর বিপিএতে যোগদান করেন।
পরে ১৭ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর ছুটি ভোগের উদ্দেশ্যে ১৭ সেপ্টেম্বর পূর্বাহ্নে একাডেমি ত্যাগ করেন আসাদুজ্জামান। তবে ছুটি শেষে তিনি কর্মস্থলে যোগদান করেননি। পরবর্তী সময়ে তাকে কর্মস্থলে হাজির বা যোগদানের জন্য তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইল ঠিকানায় একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। তারপরও তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন।
এ ঘটনায় আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী পলায়নের অভিযোগ আনা হয়। পুলিশ অধিদপ্তর থেকে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পত্র পাঠানোর পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কারণ দর্শানোর নোটিসের জবাব দেননি। এমনকি জবাব দাখিলের সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি। পরে অভিযোগ গুরুদণ্ডযোগ্য হতে পারে বিবেচনায় ২০২৫ সালের ১ জুলাই তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
তদন্ত শেষে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর গত বছরের ১৬ অক্টোবর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য কোনো উপযুক্ত গুরুদণ্ড দেওয়া হবে না কেন এ মর্মে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। ওই নোটিসেরও তিনি কোনো জবাব দেননি।
পরবর্তী সময়ে আসাদুজ্জামানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শ) প্রবিধানমালা অনুযায়ী বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শের জন্য পাঠানো হয়। গত ১২ আগস্ট পিএসসি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড দেওয়া যেতে পারে বলে পরামর্শ দেয়।
বিভাগীয় মামলার নথিতে বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতি হওয়ায় গুরুদণ্ড আরোপের জন্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নেওয়া হয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে অনুমোদন দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আসাদুজ্জামানকে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হিসেবে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদেশে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে আনীত পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী এ গুরুদণ্ড দেওয়া হলো।



