‘আমার ছেলেটারে খুঁইজা দিয়েন, ও কথা কইতে পারে না’

ছবিটি ভিডিও থেকে নেওয়া
‘আমার একটাই চাওয়া, আপনারা আমার ছেলেটারে খুঁইজা দিয়েন। ও কথা কইতে পারে না।’
আজ রবিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘আমার সন্তান কোথায়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ আকুতি জানান কাউসার নামে নিখোঁজ এক শিশুর মা। এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মুন এলার্ট। এতে নিখোঁজ শিশুদের সন্ধান, নিরাপদ প্রত্যাবর্তন ও রাষ্ট্রের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়।
গত ৪ আগস্ট নিখোঁজ হয় কাউসার। তার মা বললেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম কোথাও খেলতে গেছে। এদিক-ওদিকে খেলতে যায় প্রতিদিনই। তবে অনেকক্ষণ না পেয়ে স্বামী-স্ত্রী ও আরেকজনকে নিয়ে খোঁজা শুরু করি। কিন্তু অনেক খোঁজার পরও ওকে পাইনি।’
বরিশাল থেকে এসেছেন আরেক নিখোঁজ শিশু জুবায়ের হোসেনের বাবা। জুবায়েরের বাড়ি বরিশালের কাজীর হাট থানা ভাসানচর ইউনিয়নে। ৭২ দিন আগে সে নিখোঁজ হয়েছে বরিশাল মাদ্রাসা থেকে।
জুবায়েরের বাবা জানান, নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে কল করে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এরপর থানায় জিডি করা হয়।
ছেলেকে হারিয়ে তিনি বলেছেন, ‘ফুটপাতে হকারের কাজ করি আমি। সারা দেশে ঘুরে আমার ছেলেকে খোঁজা সম্ভব না। প্রশাসনের কাছে আমার দাবি থাকবে যাতে আমার ছেলেকে খুঁজে বের করে।’
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিখোঁজ অনেক শিশুর অভিভাবক এ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। তাদের দাবি, সন্তানদের খুঁজে বের করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিক সরকার।
গত বৃহস্পতিবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এরই মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বা তারা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। বাকি ২ হাজার ৩৮ শিশুর কোনো সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজ হওয়ার কারণ হিসেবে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, ছোট শিশুরা সাধারণত পরিবারের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে গিয়ে পথ হারানো, ঠিকানা বলতে না পারা কিংবা একা বাড়ি ফেরার পথে অন্যত্র চলে যাওয়ার কারণে নিখোঁজ হয়। কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে কারণ কিছুটা ভিন্ন। অভিমান, পড়াশোনার চাপ, পারিবারিক কলহ, স্বাধীন জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাব এবং পরিবারের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা তাদের বাড়ি ছাড়ার অন্যতম কারণ।







