ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী শুক্রবার

ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক। ফাইল ছবি
ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী শুক্রবার (২ অক্টোবর)। গত বছরের এই দিনে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর। দিনটি স্মরণ করে ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক ফাউন্ডেশন আগামী ২৪ অক্টোবর বাংলা একাডেমিতে এক স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এ অনুষ্ঠান কবি, ভাষাসংগ্রামী, রবীন্দ্রসাহিত্যের গবেষক আহমদ রফিকের জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা করবেন বিশিষ্টজনেরা।
আজ বৃহস্পতিবার আহমদ রফিক ফাউন্ডেশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ফাউন্ডেশন আহমদ রফিকের সংগৃহীত বই, বিভিন্ন সাময়িকী, স্মারক প্রভৃতি নিয়ে একটি বেসরকারি সংস্থার কার্যালয়কে অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছে। একজন ভাষাসংগ্রামীর সংগৃহীত বইপুস্তক, ব্যবহার্য, নামাঙ্কিত প্রতিটি সামগ্রীই মহামূল্যবান। অমূল্য সম্পদ হিসেবে ফাউন্ডেশন সেগুলো আগলে রাখার চেষ্টা করছে।
তারা আহমদ রফিকের স্মৃতিবিজড়িত বইপুস্তক ও মূল্যবান সব সামগ্রী নিয়ে একটি গ্রন্থগার ও স্মৃতিজাদুঘর গড়ে তুলতে চায়। কিন্তু সরকার বা রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া জাদুঘর গড়া যেমন সম্ভব নয়, তেমনি তার ব্যবহার্য সামগ্রীগুলোও টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
১৯২৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে জন্ম নেন আহমদ রফিক। তার কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে, ‘নির্বাসিত নায়ক’, ‘বাউল মাটিতে মন’, ‘রক্তের নিসর্গে’, ‘পড়ন্ত রোদ্দুরে’, ‘ভালোবাসা ভালো নেই’, ‘নির্বাচিত কবিতা’। প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে, ‘শিল্প সংস্কৃতি জীবন’, ‘নজরুল কাব্যে জীবনসাধনা’ ‘আরেক কালান্তর’, ‘বুদ্ধিজীবীর সংস্কৃতি’, ‘রবীন্দ্রনাথের রাষ্ট্রচিন্তা ও বাংলাদেশ’, ‘একুশের ইতিহাস আমাদের ইতিহাস’, ‘ভাষা আন্দোলন: ইতিহাস ও তাৎপর্য’, ‘ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি ও কিছু জিজ্ঞাসা’। ১৯৬৩ থেকে ১৯৭০ সাল অবধি তিনি ত্রৈমাসিক সাহিত্যপত্রিকা ‘নাগরিক’ সম্পাদনা করেছেন।
স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৫ সালে একুশে পদক, ২০০১ সালে বাংলা একাডেমির ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’, ১৯৭৯ সালে ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’, ১৯৯৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট থেকে তিনি ‘রবীন্দ্রত্ত্বাচার্য’ উপাধি পান।



